দুদকের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল গ্রেপ্তার

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান
সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান | ছবি: সংগৃহীত
1

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানকে। আজ (বুধবার, ৭ জানুয়ারি) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সহকারী (পরিচালক) জনসংযোগ তানজির আহমেদ।

আজ তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

কারাগারে থাকা জিয়াউল আহসানকে গত ২১ ডিসেম্বর দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ বুধবার দিন ধার্য করেন। আজ সকালে শুনানিতে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠায় আদালত।

জিয়াউল আহসানের পক্ষে ওকালতনামা দাখিল করেছেন ব্যারিস্টার আসিফুর রহমান। তবে কোনো জামিনের আবেদন করেননি।

এর আগে, গত বছরের ২৩ জানুয়ারি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন। মামলায় তার স্ত্রী নুসরাত জাহানকেও আসামি করা হয়।

আরও পড়ুন:

এই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান নিজ নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। এ ছাড়াও গাইডলাইন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রান্সজেকশন-২০১৮ ও ২০২০ সালের এফইপিডি সার্কুলার-৬ অনুযায়ী বর্তমান অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করে স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতা ও যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেন। এছাড়া নিজ নামে ৮টি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন জিয়াউল আহসান। একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে এই কাজে নিজের পদ ও অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ওই বছর ১৫ আগস্ট গভীর রাতে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকা থেকে জিয়াউল আহসানকে আটক করা হয়। পরদিন তাকে নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। সেদিন তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়। পরে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ইএ