এল নিনো ও হরমুজ সংকটে বাড়ছে বিশ্ববাজারের উদ্বেগ

এল নিনো সংকট
এল নিনো সংকট | ছবি: সংগৃহীত
0

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কবলে পড়তে পারে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো। একদিকে হরমুজে অচলাবস্থা, অন্যদিকে এল নিনোর শঙ্কা— সব মিলিয়ে বৈশ্বিক কৃষিজাত পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় আসছে বড় সংকট। এর চেয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য, ইতিহাসের ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এবারের এল নিনো।

তাপপ্রবাহ, দাবানল, বন্যা, ভূমিধস- বিশ্বজুড়ে চলমান এই বিপর্যয়গুলোর মধ্যেও সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এল নিনোর আগমন বার্তা।

সহজ কথায় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উষ্ণতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ার প্রাকৃতিক ঘটনাকে বলা হয় এল নিনো। এটি সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং প্রতি ২ থেকে ৭ বছর পর পর ঘটে। এল নিনোর প্রভাবে সমুদ্রের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাতাসের গতি ও চাপ বদলে যায়। এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে বৃষ্টি কমে গিয়ে বাড়ে খরা ও গরম। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে এর প্রভাবে দেখা দেয় প্রবল বর্ষণ ও বন্য।

এবার এল নিনো নিয়ে চাঞ্চল্যকর এক পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। জাতিসংঘের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মারাত্মক এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কবলে পড়তে পারে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো। আরও আশঙ্কা করছেন, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক কৃষিখাতে বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারে এই এল নিনোর কারণে।

আরও পড়ুন:

এফএও’র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরোরো বলেন, ‘উদ্বেগের মূল কারণ এল নিনো হলেও হরমুজ প্রণালির অচলা অবস্থাও এর সঙ্গে জড়িত। হরমুজ অবরোধের কারণে কৃষি উপকরণের সরবরাহ কমে গেছে। বিশ্বের মোট কৃষি উপকরণের ৩০ শতাংশ পারাপার হতো এই প্রণালি দিয়ে। যন্ত্রপাতি, প্রক্রিয়াজাত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, প্রক্রিয়াজাত সার, ফসফেট, সালফার, ইউরিয়া ব্যবহার করা সংকর বীজও এর অন্তর্ভুক্ত।’

একদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে সার ও বীজের সরবরাহ সংকট আছে বিশ্বজুড়ে। এর মধ্যে বছরের শেষ চার মাস লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া থাকলে কৃষিখাতে এর দ্বিগুণ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আরও আশঙ্কার কথা, লাতিন আমেরিকা জুড়ে এল নিনোর প্রভাব হবে অসম। চলতি বছর পেরুর উত্তর উপকূলে বন্যা আর উঁচু এলাকায় ছিল পানির সংকট। এই অসম ব্যবস্থা উত্তর ও দক্ষিণ চিলির মধ্যে দেখা দিতে পারে বছরের শেষ প্রান্তিকে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এবছর এল নিনো দেখা দেয়ার সম্ভাবনা আছে ৮১ শতাংশ, যা ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ফলে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কৃষিপণ্যের পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নজর দেয়া, সহনশীল বীজ তৈরি করা এবং ফসল কাটার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

কারণ বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিপণ্য বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি লাতিন আমেরিকা। অঞ্চলটি বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য রপ্তানিকারক অঞ্চলগুলোর একটি, যা এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে প্রধান খাদ্যপণ্য সরবরাহ করে থাকে। এই অঞ্চলে যদি বছরের শেষ চার মাস আবহাওয়া প্রতিকূল থাকে তাহলে ভুগবে গোটা বিশ্বই।

এসএস