ইথিওপিয়ার গৃহযুদ্ধ: টাইগ্রাইয়ের রাজধানীর কাছে মিলিশিয়াদের আগমন, সুদান ও ইরিত্রিয়া সীমান্তে আতঙ্ক

ইথিওপিয়ার মেকেলে শহরে টিগ্রাই শহীদ স্মৃতিসৌধের কাছে পথচারী ও যানবাহন
ইথিওপিয়ার মেকেলে শহরে টিগ্রাই শহীদ স্মৃতিসৌধের কাছে পথচারী ও যানবাহন | ছবি: সংগৃহীত
0

ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থনপুষ্ট মিলিশিয়া বাহিনী উত্তরে বিদ্রোহী অধ্যুষিত টাইগ্রাই অঞ্চলের প্রধান শহর মেকেলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গত সপ্তাহে এই সংঘাত নতুন করে রক্তক্ষয়ী রূপ নেওয়ার পর প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়া ও মিসরের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে, যা পুরো অঞ্চলে এক বড় যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়াচ্ছ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রো-গভর্নমেন্ট মিলিশিয়া বাহিনী জানিয়েছে, মেকেলে থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরের মিলাজাত শহর দখল করেছে তারা। টাইগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই মুখোমুখি অবস্থানকে ২০২২ সালের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজধানী মেকেলেতে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় ব্যাংক, বাজার ও দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে টিপিএলএফের শীর্ষ নেতারা শহর ছেড়েছেন। তবে টিপিএলএফ চেয়ারম্যান দেবরেৎসিয়ন গ্যাব্রেমাইকেল জানান, তাদের বাহিনী সময় সুযোগমতো অবশ্যই পাল্টা আঘাত হানবে।

এদিকে চলমান এই সংঘাতের দায় প্রতিবেশীদের ওপর চাপিয়ে ইরিত্রিয়ায় নিজেদের দূতাবাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাডিস আবাবা। একই সঙ্গে দেশটির ১০ ইরিত্রীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইথিওপিয়ার সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানিয়েছে ইরিত্রিয়া। এ ছাড়া ইথিওপিয়া ও মিসর একে অপরের কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন যৌথভাবে ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া ও মিসরকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

অন্য এক ঘটনায় রাজধানী অ্যাডিস আবাবায় সেনাসদস্যদের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলার দাবি করেছে বিরোধীরা। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পটভূমিতে ভূ-বেষ্টিত ইথিওপিয়া সমুদ্রপথে নিজেদের যাতায়াতের স্থায়ী সুযোগ নিশ্চিত করতে চায়, যা লোহিত সাগরের উপকূলে থাকা ইরিত্রিয়ার জন্য চরম নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এএম