বৃষ্টির পানিতে থৈ থৈ করছে লোকালয়। প্রাণ রক্ষায় ঘরের চালায় উঠে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে একটি ঘোড়া। পায়ে ভর করে ছুটে চলার নিশানা খুঁজে না পাওয়া এই অবলা প্রাণীর অসহায় চিত্রটি দৃশ্যটি ব্রাজিলের রিও গ্রান্দে দো সুল রাজ্যের।
বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় এমন অবস্থা এখানকার প্রায় ৪০০টি পৌরসভার। যেখানে মানুষের পাশাপাশি ঝুঁকিতে রয়েছে অসংখ্য গৃহপালিত পশু-পাখিও। এ অবস্থায় জলাবদ্ধ ঘর-বাড়িতে আটকে থাকা মানুষের শখের প্রাণীগুলোকে উদ্ধারে নেমেছে স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকর্মীরা। এ সময় কুকুর ও অন্যান্য জীবের কামড় খেতে হচ্ছে অনেককে। তবুও প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করে অবলা প্রাণীর জীবন রক্ষায় উদ্ধারকর্মীদের এই ছুটে চলা।
স্থানীয় একজন বলেন, 'এই ভবনের উপরে অন্তত ২০টি কুকুর আটকে আছে। এখানে ঢোকার সহজ কোনো পথ নেই। চারদিক লোহা ও কাঠ দিয়ে পূর্ণ। তবুও তাদের বাঁচাতে হবে। আমি ভেতরে ঢুকার পর একটি কুকুর কামড় দিয়েছে। কিন্তু কিছু করার নেই, তাদের বাঁচাতে হলে এখান থেকে বের করতে হবে। আমরা তাই করছি।'
বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট নদীতে পরিণত হওয়ায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে। প্রাণ যাচ্ছে বহু মানুষের। নিখোঁজের সংখ্যাও ১২০ জন ছাড়িয়েছে। বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা এক লাখ ৬০ হাজারের বেশি। বেশিরভাগ জায়গায় পানীয় জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। এমনকি টেলিফোন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় সাহায্যের জন্য উদ্ধারকর্মীদের ডাকারও উপায় নেই। অবিরাম বর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পেতে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তার ওভারপাসে। সেখানেও নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের।
একজন বাসিন্দা বলেন, 'আমি ঘুমাতে পারি না, সারা রাত জেগে থাকতে হয়। কারণ এই সেতুটি দুলছে। যার কারণে আমি ভয় পাচ্ছি যে এটি যে কোনো সময় পড়ে যাবে। এমনকি সেতুর উপরে পানি পৌঁছায় কি না তা নিয়েও আতঙ্কে আছি।'
এমন পরিস্থিতিতে বন্যার পানিতে আটকে পড়াদের উদ্ধারে রাজ্য জুড়ে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে সেনা, পুলিশ, ফায়ার ফাইটার্স এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ১৫ হাজারের বেশি সদস্য। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে ঝাপিয়ে পড়ছেন উদ্ধার তৎপরতায়।
ব্রাজিলে ভয়াবহ বন্যায় ৬০ হাজারের বেশি বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষতি পরিমাণ প্রায় ১২০ কোটি ডলার। এছাড়া হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পৌর ভবনের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি ডলার। পানি কমলে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা আরও বেশি হতে পারে বলেও শঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

 found inside the Brazilian woman-320x167.webp)



