বাংলাদেশিদের ডিভি লটারিতে অংশগ্রহণের অতীত ও বর্তমান সম্ভাবনা (DV Lottery eligibility rules for Bangladeshi citizens)
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী যেসব দেশ থেকে ঐতিহাসিকভাবে কম সংখ্যক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পান, মূলত তাদের জন্যই এই ডাইভারসিটি ভিসা লটারি প্রোগ্রাম (US Diversity Visa program history and rules)।
২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি এই লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে উচ্চ অভিবাসন সংখ্যার কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশিরা এই ডিভি লটারির বাইরে রয়েছে (Why Bangladesh is excluded from DV lottery since 2012)। এবার যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে সারা দেশের উৎসাহী আবেদনকারীদের নজর এখন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ তালিকার দিকে।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ কেন ডিভি লটারির বাইরে এবং শর্তাবলি (Why Bangladesh is excluded from DV Lottery and eligibility rules)
যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রতীক্ষিত ডাইভারসিটি গ্রিন কার্ড বা ডিভি লটারি (US Diversity Visa DV Lottery 2027 update) পুনরায় চালুর খবর প্রকাশের পর থেকেই বাংলাদেশের অভিবাসনপ্রত্যাশী মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এর আবেদনপ্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও শর্তাবলি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো আসন্ন এই লটারিতে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ্য দেশের তালিকায় ফিরবে কি না (Can Bangladeshi citizens apply for DV Lottery 2027)। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ অভিবাসন হারের কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছে (DV lottery country eligibility rules for Bangladesh)। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে অভিবাসনের সুযোগ পেয়েছিলেন।
ডিভি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো, যেসব দেশ থেকে ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার তুলনামূলক কম, কেবল সেইসব দেশের নাগরিকদের দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়ার বিধান রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘গ্রিন কার্ড লটারি’ (Green Card Lottery program) নামে পরিচিত।
আরও পড়ুন:
অন্যান্য ভিসার তুলনায় ডিভি লটারির সুবিধা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা (DV Lottery application requirements and process)
অন্যান্য কর্মভিত্তিক বা স্থায়ী অভিবাসন প্রক্রিয়ার তুলনায় ডিভি লটারির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো—এতে অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোম্পানির চাকরির অফার বা কোনো নিয়োগকর্তার স্পন্সরশিপের প্রয়োজন হয় না। তবে লটারিতে নাম উঠলেই সরাসরি গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয়ে যায় না; নির্বাচিত হওয়ার পর আবেদনকারীদের কঠোর শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন এবং মার্কিন অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের ধাপ সাফল্যের সঙ্গে পার করতে হয়।
- শিক্ষাগত বা পেশাগত শর্ত: ডিভি লটারিতে সাধারণত আবেদন করার জন্য প্রার্থীদের অন্তত উচ্চ মাধ্যমিক (HSC) বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। এর বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু পেশায় নির্ধারিত বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করার সুযোগ থাকে।
আদালতের নির্দেশনা ও ডিভি লটারির সম্ভাব্য সময়সূচি (DV Lottery 2027 application date and schedule)
মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জিনসুক ওহতা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে (US Department of State) অবিলম্বে এই লটারি প্রক্রিয়া সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমা অনুযায়ী:
- অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি: ডিভি লটারির যাবতীয় যোগ্যতার শর্তাবলি ও নির্দেশিকা আজ (২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার) প্রকাশ করার কথা রয়েছে (DV lottery official notification release date)।
- অনলাইন আবেদন গ্রহণের সময়: আগামী ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে ৩০ দিন পর্যন্ত অর্থাৎ ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু রাখার কথা বলা হয়েছে।
- ফলাফল প্রকাশ ও সময়সীমা: আবেদনের প্রক্রিয়া শেষে ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজয়ীদের নাম ও ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তবে চূড়ান্তভাবে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করার জন্য ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকবে।
আরও পড়ুন:
আইনি জটিলতা ও ট্রাম্প প্রশাসনের আপিল (US court legal battle over DV 2027 lottery status)
২০২৫ সালের শেষের দিকে ডিভি লটারির আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার পর ‘রেড ইগল ল’ নামক একটি আইনি সংস্থা আদালতের শরণাপন্ন হয়। যার ভিত্তিতে আদালত দ্রুততম সময়ে নিবন্ধন শুরুর নির্দেশ দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানিয়েছে (Trump administration appeal against DV lottery court ruling)। ফলে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে ডিভি লটারির এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া কতখানি নিরবচ্ছিন্ন থাকবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা এবং বর্তমান পরিস্থিতি (US Department of State DV lottery official announcement)
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ফোর্বস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে শুরু হওয়া এই নিবন্ধন কার্যক্রম প্রায় ৩০ দিন পর্যন্ত চালু থাকতে পারে। তবে ২০২৭ সালের ডিভি লটারির চূড়ান্ত সময়সূচি, নিবন্ধনের সঠিক তারিখ, কোন কোন দেশ যোগ্য বলে বিবেচিত হবে এবং চূড়ান্ত আবেদন পদ্ধতি কী হবে সেসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের (US Department of State) অফিশিয়াল ঘোষণার কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় কৌতূহল নতুন এই ডিভি লটারিতে বাংলাদেশ পুনরায় যোগ্য দেশের তালিকায় স্থান পাবে কি না। পররাষ্ট্র দপ্তর বা মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য আবেদন করার সুযোগ নিশ্চিত নয়।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:


