অভিবাসী হত্যায় ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য প্রমাণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক: রয়টার্স

অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হবার ঘটনাস্থলে ফেডারেল এজেন্ট ও জনতা
অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হবার ঘটনাস্থলে ফেডারেল এজেন্ট ও জনতা | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি হেফাজতে একের পর এক অভিবাসী হত্যার ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিবৃতি প্রমাণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, উঠে এসেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণে। চলতি বছর প্রথম ২৪ দিনেই অভিবাসন পুলিশ আইসের হাতে প্রাণ যায় কমপক্ষে ছয় অভিবাসীর। ট্রাম্পের এমন অভিবাসনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে মার্কিন জনতা।

আইওয়া সফরে বক্তব্য রাখছিলেন অর্থনীতি নিয়ে। সমাবেশস্থলের ভেতর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিতে দেখা যায় এক ব্যক্তিকে। ভেন্যুর বাইরেও চলছিল বিক্ষোভ। বিক্ষুব্ধদের ‘ভাড়া করা আন্দোলনকারী’ আখ্যা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতিমালার বিরুদ্ধে উত্তাপ ছড়িয়েছে পুরো যুক্তরাষ্ট্রেই। মার্কিন অভিবাসন পুলিশ আইসের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল মিনেসোটায় থেকে শুরু করে ক্ষোভের আঁচ সবচেয়ে বেশি।

ওরা আমাদের শত্রু। আমাদের অভিবাসী, প্রতিবেশী কিংবা অন্য কেউ নয়, ওরাই আমাদের ভীত করে তুলছে। সত্য স্পষ্ট আমাদের সামনে। সত্য দেখছি বলে আমাদের আর ওসকানো যাবে না।

আমি আইসের বিলুপ্তিতে বিশ্বাস করি। আমার মনে হয় না তারা একটাও ভালো কাজ করেছে। তারা ইচ্ছেকৃতভাবে হিংস্র। তাদের লক্ষ্য হিংস্রতা এবং আমাদের ক্ষতি করা। আমি তাদের এখানে চাই না, এ শহরে না, এ দেশেও চাই না।

আরও পড়ুন:

গেলো বছর, অর্থাৎ ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার প্রথম বছরে, আইসের হেফাজতে প্রাণ যায় ৩২ অভিবাসীর। চলতি বছরের প্রথম ২৪ দিনেই এ সংখ্যা কমপক্ষে ছয়। এর মধ্যে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে নিহত দুইজনসহ গেলো ক'মাসে অন্তত ছয়টি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিবৃতি ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণ। আক্রমণাত্মক আচরণের দোহাই দিয়ে হত্যাকাণ্ডের পক্ষে প্রশাসন সাফাই গাইলেও, বিভিন্ন সময়ে আদালতে উপস্থাপন করা প্রমাণে দেখা গেছে ভিন্ন পরিস্থিতি। এতে প্রশ্নবিদ্ধ সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রহণযোগ্যতা এবং সুষ্ঠু তদন্তের প্রতি তাদের আগ্রহ।

সবশেষ গেলো ২৪ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে নিহত অ্যালেক্স প্রেটি হত্যার ঘটনায়, ভিডিওতে দেখা যায়, গুলি ছোঁড়ার আগেই তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয় এক আইস এজেন্ট। তারপরও নিরস্ত্র প্রেটিকেই হত্যার ঘটনার সাফাই গাইছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তার তো আগ্নেয়াস্ত্র বহন করাই উচিত হয়নি। কিন্তু এটাকে খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হিসেবে দেখছি। বোকা না হলে যে কেউই বুঝতে পারবে যে এটা খুবই, খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। কিন্তু তাও তার কাছে বন্দুক থাকার বিষয়টি আমার ভালো লাগেনি।’

আইসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে, ট্রাফালগার স্কয়ারে। মিনিয়াপোলিসে দুই অভিবাসীকে হত্যার ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেনি মার্কিন বিচার বিভাগ।

এএম