আলোচনা ছাড়াই গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে কুশনারের ‘মাস্টার প্ল্যান’

গাজার মাস্টার প্ল্যান উপস্থাপন করেন জারেড কুশনার
গাজার মাস্টার প্ল্যান উপস্থাপন করেন জারেড কুশনার | ছবি: সংগৃহীত
0

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও আবাসন ব্যবসায়ী জারেড কুশনার গেল সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যুদ্ধ পরবর্তী গাজা নিয়ে এক মাস্টার প্ল্যান তুলে ধরেন। ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা ছাড়াই গাজার নগর কাঠামো কেমন হবে, তার একটি চিত্র তুলে ধরা হয় এ মাস্টার প্ল্যানে। যার মধ্যে রয়েছে, আবাসিক ভবন, তথ্য কেন্দ্র, সমুদ্রতীরবর্তী অবকাশযাপন কেন্দ্র, পার্ক, খেলাধুলার ব্যবস্থা এবং একটি বিমান বন্দর।

গাজার বিদ্যমান নগর কাঠামো পুরোপুরি মুছে ফেলে এর নগরায়ণের পুঙ্খানুপুঙ্খ ম্যাপ তৈরি করে এই মাস্টার প্ল্যানের কোনো বিকল্প হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন জারেড কুশনার। দুই থেকে তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের অর্থায়ন কীভাবে হবে তার বিস্তারিত জানাননি তিনি।

এছাড়া এই সময়ে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আবাসন নিয়েও কোনো দিক নির্দেশনা দেয়া হয়নি মাস্টার প্ল্যানে। তবে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রত্যাহার আর হামাসের পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানান জারেড কুশনার।

এদিকে নিরস্ত্রীকরণ আলোচনার আগে, নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর ভবিষ্যৎ ভূমিকা খতিয়ে দেখছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ফিলিস্তিনি প্রশাসনে, গাজার ১০ হাজার পুলিশ কর্মকর্তার অন্তর্ভুক্তি চায় হামাস। শুধু তাই নয়, এই ১০ হাজার পুলিশ কর্মকর্তাসহ, হামাসের অধীনে কাজ করা ৪০ হাজারেরও বেশি কর্মচারী ও নিরাপত্তা সদস্যের অধিকার রক্ষা এবং তাদের নতুন প্রশাসনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে শাসকদলটি।

আরও পড়ুন:

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, ‘ড. আলী শাথ নেতৃত্বাধীন স্বাধীন কমিটিতে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাসহ অন্যান্য সরকারি সংগঠনের সবাইকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই নতুন প্রশাসনের অধীনে থাকার জন্য সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

এদিকে ইসরাইল, গাজার ভবিষ্যৎ শাসনে হামাসের যেকোনো ভূমিকার কড়া বিরোধিতা করছে। গেল সোমবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় পরবর্তী ধাপের লক্ষ্য এর পুনর্গঠন নয়, বরং হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অক্টোবরে হয় যুদ্ধবিরতি চুক্তি। অবশ্য দু’পক্ষই চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করে আসছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, গাজার প্রায় অর্ধেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ হামাসের। চুক্তি অনুযায়ী, হামাস অস্ত্র ত্যাগ করলে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে।

এএম