ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোকেও শুল্কের হুমকি; গ্রিনল্যান্ড দখলে মরিয়া ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প, গ্রিনল্যান্ড
ডোনাল্ড ট্রাম্প, গ্রিনল্যান্ড | ছবি: সংগৃহীত
0

আবারও বিশ্বমঞ্চে তোলপাড় সৃষ্টি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রে যুক্ত করার জন্য এবার রীতিমতো ‘শুল্ক যুদ্ধ’ শুরুর হুমকি দিয়েছেন তিনি। ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো যদি তার এ ‘অধিগ্রহণ’ পরিকল্পনায় সায় না দেয়, তবে তাদের ওপর কঠোর বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। স্থানীয় সময় গতকাল (শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দেন।

গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে জোড় দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড আমাদের চাই-ই চাই।’

তবে ট্রাম্পের এ মারমুখী অবস্থানের বিপরীতে ডেনমার্কের মতো পুরনো মিত্রের ক্ষোভ প্রশমনে তড়িঘড়ি করে কোপেনহেগেনে ছুটে গেছে কংগ্রেসের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল।

এদিকে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ বা ‘অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’র জন্য গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন অনেকে। আর এ লক্ষ্য অর্জনে ট্রাম্প এবার শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার হুমকির সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য হাসিলে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক ব্যবহার করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। মূলত চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ডেনমার্ককে আলোচনায় বসাতে চাইছে হোয়াইট হাউস।’

ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী বক্তব্যে ন্যাটোর মিত্রদের মধ্যে তীব্র অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে ডেনমার্ক সফরে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:

প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস বলেন, ‘ডেনিশদের মনে করিয়ে দেয়া প্রয়োজন যে যুক্তরাষ্ট্রের সব ক্ষমতা কেবল প্রেসিডেন্টের হাতে নয়, কংগ্রেসের হাতেও আছে।’

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো যুদ্ধের বা শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নেই বলে ডেনমার্ককে আশ্বস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংসদীয় এ প্রতিনিধি দলটি।

কেবল বিদেশেই নয়, ঘরের মাঠেও বাধার মুখে পড়ছেন ট্রাম্প। ন্যাটোর কোনো মিত্রের ভূখণ্ড জোরপূর্বক দখল বা নিয়ন্ত্রণ নিতে যেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কোনো তহবিল ব্যবহার করা না যায়, সেজন্য আইন পাসের তোড়জোড় শুরু করেছেন সিনেটর লিসা মুরকোস্কি ও জিন শাহীন। এমনকি সামরিক শক্তির ব্যবহার রুখতে ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ আনার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন সিনেটর রুবেন গ্যালেগো। কংগ্রেসের অনেক সদস্যই মনে করছেন, এমন হুমকি ন্যাটোর মতো দীর্ঘদিনের শক্তিশালী জোটকে হুমকির মুখে ফেলবে।

এদিকে ডেনমার্ক সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন হোয়াইট হাউসে আলোচনা শেষে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের ‘মৌলিক মতপার্থক্য’ রয়েছে। তবে ট্রাম্পের নিরাপত্তার অজুহাত সামাল দিতে ওই অঞ্চলে ন্যাটোর মিত্রদের সহায়তায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের এ ‘গ্রিনল্যান্ড মিশন’ পুরো ইউরোপীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে।

এসএস