গ্রিনল্যান্ড-ডেনমার্কের নিরাপত্তার বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি ইউরোপের

পাউলা পিনহো, ডোনাল্ড ট্রাম্প
পাউলা পিনহো, ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজন, শিগগিরই এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি বন্ধে ট্রাম্পের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী। আর যুক্তরাজ্য বলছে, এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক নির্ধারণ করবে। আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অগ্রাধিকার বিষয়। এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউরোপ।

ট্রাম্প আতঙ্কে ভুগছে বিশ্বের বহু দেশ। গাজা উপত্যকার পর ভেনেজুয়েলার শাসনভার নিজের দখলে নেয়ার ট্রাম্পের পরিকল্পনার পর এ আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে। ভেনেজুয়েলার সামরিক আগ্রাসনে অনেকটা হুমকিতে লাতিন অঞ্চলের দেশগুলো। এছাড়া খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ দেশগুলোও ট্রাম্পের আগ্রাসনের শঙ্কায় ভুগছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু কিউবা, কলম্বিয়া, ইরান, গ্রিনল্যান্ডসহ বেশকিছু অঞ্চল।

এবার গ্রিনল্যান্ড দখলের পায়তারা করছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ, গ্রিনল্যান্ডের চারপাশ ঘিরে রেখেছে রাশিয়া ও চীনের নৌবহর। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজন। এটি খুবই কৌশলগত বিষয়। এ মুহূর্তে গ্রিনল্যান্ডের চারপাশে রুশ ও চীনা নৌবহর রয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ডেনমার্ক দিতে পারবে না।’

গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন। যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের অভিপ্রায়কে অর্থহীন উল্লেখ করে তিনি জানান, গ্রিনল্যান্ড বা ডেনমার্কের কোনো অংশ দখল করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই। গ্রিনল্যান্ডের নেতারাও বলছেন যথেষ্ট হয়েছে। এই অঞ্চল নিয়ে কোনো ধরনের পরিকল্পনা কাউকেই বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন নর্ডিক নেতারা।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেছেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ তারা নিজেরা নির্ধারণ করবে। ভেনেজুয়েলার মতো গ্রিনল্যান্ডও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে বলে শঙ্কা জানিয়েছেন তিনি।

কেয়ার স্টারমার বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের ভবিষ্যৎ কী হবে সেটা তারা নিজেরা নির্ধারণ করবে। ডেনমার্ক ইউরোপ এবং ন্যাটো উভয়ক্ষেত্রেই যুক্তরাজ্যের খুব ঘনিষ্ঠ মিত্র। গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অন্য কারও মাথা ঘামানো ঠিক হবে না।’

আরও পড়ুন:

গ্রিনল্যান্ডের জাতীয় সার্বভৌমত্বের নীতি বজায় রাখতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র পাউলা পিনহো। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদ মেনে চলার আহ্বানও জানিয়েছে ইইউ। এ ইস্যুতে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলেও নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপের দেশগুলো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক কৌশল, সম্পদের মজুত এবং আর্কটিক শিপিং রুটের জন্য গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই অঞ্চলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন কিছু নয়।

ডেনিশ বিশেষজ্ঞ ড. স্টিন বিজেরে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড দখলের কোনো অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই। যদি এ ইস্যু চরমে পৌঁছায় তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উইরোপে ও ন্যাটোর বাকি অংশের মধ্যে একটি সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। ইউরোপীয়দের সঙ্গেও তাদের এ বিষয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। যা এ অঞ্চলকে কঠিন পরিস্থিতির দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’

২০১৯ সাল থেকেই গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৭৯ সালে গণভোটের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা পায় গ্রিনল্যান্ড। অঞ্চলটিতে বসবাস প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার। তবে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য এখনো ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে গ্রিনল্যান্ড।

এসএস