অবশেষে পৃথিবীতে ফিরলেন মহাকাশে নয় মাস ধরে আটকে থাকা দুই মার্কিন নভোচারী সুনিতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর। মঙ্গলবার ভোরে স্পেসএক্সের ক্যাপসুলে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ত্যাগ করেন তারা। এর আগে সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার সময় আবেগ ঘন পরিবেশ তৈরি হয় মহাকাশ স্টেশনে। একে অন্যের সঙ্গে আলিঙ্গন করে ছবি তুলতে দেখা যায়।
দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টার যাত্রা শেষে বিশেষ প্যারাসুটের মাধ্যমে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে ফ্লোরিডা উপকূল থেকে ৫০ মাইল দূরে সমুদ্রে অবতরণ করে স্পেসএক্স ক্যাপসুল। তখন ডলফিনের একটি দল ক্যাপসুলটি ঘিরে এমনভাবে সাঁতার কাটছিল, দেখে মনে হচ্ছিল এরা নভোচারীদের পৃথিবীতে স্বাগত জানাচ্ছে।
ক্যাপসুলটি পানি থেকে প্রথমে একটি নৌকাতে তোলা হয়। পরে সেখানে থেকে বের হয়ে আসেন মহাকাশচারী বুচ উইলমোর ও সুনিতা উইলিয়ামস। এরপর তাদের নাসার বিমানে করে নেয়া হয় জনসন স্পেস সেন্টারে। কয়েকদিনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ৪১ দিনের দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে তারা ফিরে যাবেন পরিবারের কাছে।
এদিকে নাসার ক্রু-নাইন মিশনের সফল অবতরণের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা। এজন্য তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানান।
নাসার স্পেস অপারেশনস মিশন ডিরেক্টরেট জোয়েল মন্টালবানো বলেন, ‘এখানে যারাই আছেন আমরা সবাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য কাজ করেছি। আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জন্য কাজ করি। ট্রাম্পের অফিস থেকে আমাদের নির্দেশনা ছিল। আমাদের কাজ হল সমস্ত নির্দেশনা গ্রহণ করা এবং যতটা সম্ভব তার সফল বাস্তবায়ন করা। আমরা এটা যেকোনো প্রশাসনের জন্যই করবো।’
মহাকাশে দীর্ঘ সময় থাকা নভোচারী হলেন ফ্র্যাঙ্ক রুবিও ৩৭১ দিন, মার্ক ভ্যান্ড হেই ৩৫৫ দিন, স্কট কেলি ৩৪০ দিন, ক্রিস্টিয়ান কোচ ৩২৮ দিন, পেগি হুইটসন ২৮৯ দিন, বুচ ও সুনিতা ২৮৬ দিন।
গেল জুন মাসে মাত্র আট দিনের মিশনে গিয়ে বোয়িং এর মহাকাশযান স্টারলাইনারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেখানে নয় মাসের জন্য আটকা পড়েন দুই নভোচারী। তাদের ফেরানো নিয়েও শুরু হয় নানা রাজনীতি। ইলন মাস্কের দাবি, বাইডেন প্রশাসনের ব্যর্থতায় তারা এতদিন মহাকাশে আটকে ছিলেন। তবে মহাকাশে আটকে পড়া বিরল নয়। ২০২২ সালে মার্কিন নভোচারী ফ্রাঙ্ক রুবিও রেকর্ড ৩৭১ দিন মহাকাশে আটকে ছিলেন।
দীর্ঘ নয় মাস ধরে মহাকাশে আটকে পড়া দুই নভোচারী বুচ ও সুনিতা ৯০০ ঘণ্টায় প্রায় দেড়শ'টি গবেষণা করেছেন।