ব্রিকসভুক্ত দেশের ওপর দেড়শ শতাংশ শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের

উত্তর আমেরিকা
বিদেশে এখন
0

ডলারকে ধ্বংস করতে চাইলে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর ওপর দেড়শ শতাংশ শুল্কারোপ করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্পের বুলি আওড়াচ্ছেন মার্কিন নিরাপত্তা পরিষদ আর ন্যাটো। জুনের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে শতভাগ ব্যয় নিশ্চিত করার সময়সীমা দেয়া হয়েছে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোকে। এদিকে, অভিবাসন আর ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করে বাইডেন প্রশাসনকে তুলোধোনা করলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

দেশে দেশে পণ্য আমদানিতে শুল্কারোপ করে বাণিজ্য যুদ্ধ, ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার পক্ষ, গাজা ইস্যুতে ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে বিতর্ক, গণহারে সরকারি কর্মী ছাঁটাই আর অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো, হোয়াইট হাউজে বসার একমাসে এই সবকিছু নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীন, কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর এবার টার্গেট ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো। রিপাবলিকান গভর্নর্স এসোসিয়েশনের বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যরাই ডলারকে ধ্বংসের চেষ্টা করবে, তাদের ওপর দেড়শ শতাংশ শুল্কারোপ করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ব্রিকসের ছয়টি দেশ আছে। তারা ডলারকে শেষ করতে চায়। নতুন মুদ্রা বানাতে চায়। মনে হয় চীনের ইউয়ান ব্যবহার করতে চায়। ডলারকে ধ্বংসের চেষ্টা করলে পরিণতি ভালো হবে না। তোমাদের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন নেই। শুল্কারোপ তো করবোই, তাদের সঙ্গে ব্যবসাও করবো না। এরমধ্যে চীনও আছে।’

গভর্নরদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘কানাডাকে ৫১ তম অঙ্গরাজ্য করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। একসময় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকেও গভর্নর ট্রুডো বলে সম্বোধন করেন ট্রাম্প। ইউরোপকেও প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ করতে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। মার্কিন নিরাপত্তা পরিষদ বলছে, ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর অবশ্যই জুনের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের টার্গেট পূরণ করতে হবে। সুর মিলিয়ে ন্যাটো প্রধানও বলেন, এরপর ওয়াশিংটন থেকে ফোন আসবে।’

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ‘ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোকে সমর্থন করি। কিন্তু ইউরোপকে এগিয়ে আসতে হবে। গেলো কয়েক সপ্তাহ ধরে ওয়েক আপ কল দেয়া হয়েছে। জুনে ন্যাটো সম্মেলন হবে, অথচ ন্যাটোর বেশিরভাগ সদস্য দেশই বাজেটের দুই শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে না। অথচ এক দশক আগে তারা কথা দিয়েছিলো। সম্মেলনের আগে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের শর্ত অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা বাজেট ৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।’

ন্যাটো প্রধান মার্ক রুট বলেন, ‘২২ থেকে ২৩ টি ন্যাটো সদস্য দেশ মোট বাজেটের ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে। কিন্তু অনেক দেশ আছে যারা এখনও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেনি। এই জুনের মধ্যে তাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে। আমার ফোন গুরুত্বের সঙ্গে না নিলে এরপর ওয়াশিংটন থেকে ফোন আসবে। যার কাছে সময় চাইলেও লাভ নেই। ২ শতাংশ বাজেট প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।’

ন্যাটো আর অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্পের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, চার বছরে বাইডেন প্রশাসন যা করেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি কাজ গেলো এক মাসে করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তিনি বলেন, ৩০ দিন আগেও অবৈধ অভিবাসীদের ঢল যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপের জন্য বড় হুমকি ছিল, এখন পরিস্থিতি তেমন নেই। বাইডেন প্রশাসনকে তুলোধোনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো বিগত প্রশাসন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘ইউরোপ আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি ছিল অবৈধ অভিবাসীদের ঢল। ডেমোক্রেটরা ক্ষমতায় আসলে আবারও একই কাজ করবে। পশ্চিমাদের পুনর্নির্মাণ করার কিছু নেই। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের প্রবেশ করতে দিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব পুনর্গঠন করবো না। বাইডেন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের না, ইউরোপের সাধারণ মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো। এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের পথ অনুসরণ করুন। নিশ্চিন্তে কথা বলুন, সীমান্ত নিয়ে চিন্তামুক্ত থাকুন।’

আরো পড়ুন: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের নীতি: ফাটল ধরতে পারে চীন-রাশিয়ার সম্পর্কে

এমন পরিস্থিতিতে দেশকে অবৈধ অভিবাসী মুক্ত করার উদ্যোগে নতুন করে কুখ্যাত কারাগার গুয়ান্তানামো বে থেকে হন্ডুরাস হয়ে ভেনিজুয়েলা পৌঁছেছেন ১শ' ৭৭ জন ভেনেজুয়েলার নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোস্টারিকায় পৌঁছেছে ২০০ অভিবাসী নিয়ে আরেকটি বিমান। এই বিমানের বেশিরভাগ অভিবাসীই এশিয়ার নাগরিক।

এদিকে, অব্যাহত আছে সরকারি কর্মী ছাঁটাই কার্যক্রম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে ছাঁটাই করে দিতে পারেন আরও ৫০ হাজার কর্মীকে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সার্ভিস থেকে আরো ৬ হাজার কর্মীকে ছাঁটাইয়ের কথা রয়েছে। কর আদায়ের মৌসুমে রাজস্ব বিভাগে ৬ শতাংশ জনবল ছাঁটাই হবে ট্রাম্পের এই কর্মী ছাঁটাই প্রকল্পের কারণে।

ইউক্রেন আর গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিতর্কিত পরিস্থিতির মধ্যে আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন অবস্থায় বাণিজ্য, ইউক্রেন আর গাজা ইস্যুতে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতায় দক্ষিণ আফ্রিকায় একত্রিত হয়েছেন, জি টোয়েন্টি জোটের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম এই বৈঠকে অংশ নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

এএইচ