ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের নীতি: ফাটল ধরতে পারে চীন-রাশিয়ার সম্পর্কে

বিদেশে এখন
0

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের নীতি ফাটল ধরাতে পারে চীন-রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রয়োজনে পুতিনকে সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে রাজি হলেও, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মস্কোর মিত্র হিসেবে চীনা প্রেসিডেন্টকে রাখার ঘোর বিরোধী ট্রাম্প। এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টকে চূড়ান্ত ভর্ৎসনা করলেও ইউক্রেন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান অপরিবর্তিত রেখেছে বেইজিং।

ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ আলোচনার কোথাও নেই প্রধান স্টেকহোল্ডার ইউক্রেন।

নিজস্ব স্বার্থ নাকি পুতিন প্রেম কোনটাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, এ নিয়ে ইউক্রেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর পরে সবচেয়ে বেশি মাথাব্যথা বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীনের। আর এখানেও আছে সম্পর্কের ত্রিকোণমিতি।

ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি পুতিন ও শি জিনপিংয়ের গভীর বন্ধুত্বে চির ধরাতে যাচ্ছে এমন আলোচনাও এসেছে মার্কিন গণমাধ্যমে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে স্বৈরশাসক ও যুদ্ধের উস্কানি দাতা বলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চীনা পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ইউক্রেন ইস্যুতে চীনের অবস্থান আগের মতোই সামঞ্জস্যপূর্ণ ও স্পষ্ট।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গাউ জিয়াকুন বলেন, ‘ইউক্রেনে চলমান সংঘাত ইস্যুতে চীনের অবস্থান পরিষ্কার। আগামীতেও তা অপরিবর্তিত থাকবে।’

পুরানো প্রেক্ষাপট টানলে দেখা যায়, ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপের আগে সিএনএন বিবিসির মতো প্রথম সারির আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছিল, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে চীন।

বিশেষ করে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বেইজিং-মস্কো বাণিজ্যিক সম্পর্কসহ নানা কারণে চীনকে প্রাধান্য দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এমনকি তাদের ধারণা, ট্রাম্পের কারণে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা ছিল, তাও প্রশমনেরও সুযোগ পেতেন শি।

কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক গতিবিধিতে এটি স্পষ্ট ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় সবধরনের লেভারেজ বা সুবিধা পেতে যাচ্ছেন পুতিন।

পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির মতো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থেকে রীতিমতো গায়েব চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিশ্লেষকরা বলছেন এতে করে দক্ষিণ গোলার্ধের নিরপেক্ষ পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ হারালো চীন।

পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মস্কোর মিত্রশক্তি হিসেবেও প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না বেইজিং।

যদিও সাবেক মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা মনে করেন, ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপের চেয়েও পুতিনকে অগ্রাধিকার দেয়ায়, ইউরো-এশিয়ার রাজনীতিতে সুবিধা পাবে চীন। পাশাপাশি ট্রাম্পের এই নীতির কারণে রাশিয়া ও চীনের মতো মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য ধরে রাখার সুযোগ পাবে ইরানও।

সাবেক মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল এইচ আর ম্যাকমাস্টার বলেন, ‘ট্রাম্পের কূটনীতির প্রথম ধাপ ইউরোপের রাজনীতিতে ভারসাম্য আনতে রাশিয়াকে অতিরিক্ত সুবিধা দেয়া। এতে করে প্রতিরোধ অক্ষের অংশ হিসেবে ইউরেশিয়ায় শক্ত অবস্থান পাবে চীন। মধ্যপ্রাচ্যে এই সুবিধা পাবে ইরান। আমি মনে করি, ট্রাম্পের এখনই এসব সংযোগসূত্রের ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিৎ।’

তবে পুতিনের সাথে ভাব জমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী অক্ষকে কীভাবে মোকাবিলা করবেন ট্রাম্প- এ নিয়ে মুখ খুলছে না বর্তমান প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ভুলে পুতিন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কেনই বা বৈরিতা বাড়াবেন এ নিয়েও মিলছে না কোনো সদুত্তর।

এএইচ