ট্রাম্পের কারণে আলোচনায় গ্রিনল্যান্ড, পর্যটন-বাণিজ্যের আশায় দ্বীপাঞ্চল

বিদেশে এখন
0

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে গ্রিনল্যান্ড এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নিয়মিত খবর। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পর্যটন ও আর্থিক খাত সমৃদ্ধ করতে উঠে পড়ে লেগেছে ডেনমার্কের স্বায়ত্বশাসিত দ্বীপাঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা। তৈরি হচ্ছে নতুন বিমানবন্দর, কার্যক্রম শুরু করছে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো। যদিও পর্যটক সমাগম বাড়ায় দ্বীপাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, রয়েছে এই শঙ্কাও।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রত্যয়ে বিশ্ব্যবাপী স্পটলাইটে চলে এসেছে ডেনমার্কের স্বায়ত্বশাসিত এই দ্বীপাঞ্চল। এরমধ্যে রাজধানী নুকের নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এই দ্বীপাঞ্চলে পর্যটকদের আসা-যাওয়া করেছে আরো সহজ। গেল বছরের নভেম্বরে চালু হয়েছিল বিমানবন্দরটি। জুন থেকে নিউইয়র্ক থেকে নুকে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় আরও অনেক এয়ারলাইন্স। এর আগে মার্কিন পর্যটকদের কোপেনহেগেন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সামরিক ঘাঁটি কাঙ্গারলুসুয়াক ব্যবহার করতে হতো গ্রিনল্যান্ড আসার জন্য।

গ্রিনল্যান্ড বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী জিনস লওরিডসেন বলেন, ‘এখন নুকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। গ্রীষ্মের শুরুতে নুকের ব্যস্ততা বেড়েছে। অনেক অপারেটর আসছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, এয়ার গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এয়ারের কারণে বিমানে ভ্রমণ আরও বাড়বে। গ্রিনল্যান্ডের অর্থনীতি শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য। একটা হতে পারে পর্যটন খাত, আরেকটা খননকাজ। সহজে এখানে আসার পথ তৈরি করতে হবে, তাই এয়ারপোর্ট বানাচ্ছি।’

আইসফোজরডের জন্য বিখ্যাত গ্রিনল্যান্ডের প্রধান পর্যটন হাব ইল্লুলিসাতেও ২০২৬ সালে নতুন বিমানবন্দরের উদ্বোধন হবে। গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের কুয়াকোরটকেও চলছে বিমানবন্দর তৈরির কাজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে জানুয়ারিতে নুক বিমানবন্দরে আসার পর বিশ্বব্যাপী আরও আগ্রহ বেড়েছে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে। পর্যটন খাত সমৃদ্ধ করতে বিমানবন্দর তৈরিতে উঠে পড়ে লেগেছে গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

গ্রিনল্যান্ড ক্রুজের অপারেটর আইভিক কুন্দসেন বলেন, ‘সাধারণ পর্যটকদের জন্যও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অনেক প্রয়োজন। ইল্লুলিসাতে আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরি হবে। এখন থেকেই আমরা পর্যটকদের বুকিং পাচ্ছি। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প মানচিত্রে ফিরিয়ে এনেছে গ্রিনল্যান্ডকে। এখনই ব্যস্ত হচ্ছি না, আগে বিমানবন্দর তৈরি হোক।’

হাইটেক ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি বিরল খনিজের জন্য ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করে নিতে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্বায়ত্বশাসিত এই অঞ্চলের বরফের রাজ্য, হিমবাহ, বরফের গায়ে ঘেঁষা খাড়া পাহাড়ের সারি, তিমিসহ অসাধারণ জীববৈচিত্র্যের কারণে বরাবরই পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে এই দ্বীপাঞ্চল।

পরিসংখ্যান বলছে, বছর ব্যবধানে গ্রিনল্যান্ডে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট দিয়ে যাত্রী এসেছে ১৪ শতাংশ বেশি। এক দশকে হোটেলে পর্যটকদের থাকার পরিমাণও বেড়েছে। গেলো বছর সাড়ে তিন লাখ মানুষ গ্রিনল্যান্ডে রাত্রিযাপন করেছিলো, ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ। নতুন বিমানবন্দর নুকের উদ্বোধনের পর তিন মাসে পর্যটকদের বুকিং বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু দ্বীপাঞ্চলটিতে পর্যটক সমাগম বাড়লে জীববৈচিত্র ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে মত পরিবেশ বিজ্ঞানীদের।

ইএ