বিপদসংকুল পথ পেরিয়ে কোনোরকমে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশটিতে পা রেখেছিলেন ভাগ্য বদলের আশায়। ট্রাম্পের দায়িত্বের প্রথম তিনদিনেই গ্রেপ্তার এমন পাঁচশ'র বেশি অবৈধ অভিবাসী।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট তথা আইসের তথ্য, আটককৃতদের মধ্যে দেড়শর বেশি মানুষের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ দেখাতে পারেনি প্রশাসন। একই সময়ে হাজারের বেশি অভিবাসীকে সামরিক বিমানে চড়িয়ে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
অভিবাসী ও সীমান্ত ইস্যুতে নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতি অবিশ্বাস্য দ্রুততায় রক্ষার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু কোনো ধরনের বাছবিচার ছাড়া গণহারে তাদের প্রত্যাবাসনে আতঙ্কিত অভিবাসীরা। ঢালাওভাবে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সমর্থকরাও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া অভিবাসীদের ফেরত পাঠালে এর অর্থনৈতিক প্রভাব হবে মারাত্মক। সারা দেশের সব ধরনের শিল্প ও কর্মক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে। তার চেয়েও বড় বিষয়, অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্নে বিপুল অঙ্কের অর্থ গুণতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকেই।
ইমিগ্রেশন রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ পরিচালক ডেভিড ক্যালিক বলেন,‘প্রেসিডেন্ট যা বলছেন, তা বাস্তবায়ন করা খুবই ব্যয়বহুল হবে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিল যে হিসাব দিয়েছে, তাতে ১০ বছরের বেশি সময়ে এক কোটি ৩০ লাখ মানুষকে ফেরত পাঠাতে লাখ কোটি ডলারের বেশি অর্থ খরচ হবে’
২০২২ সালের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা তিন কোটির বেশি। এদের মধ্যে অননুমোদিত কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৮৩ লাখ। অভিবাসী কর্মীদের বড় অংশই প্রতিবেশী মেক্সিকো এবং মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। রেস্তোরাঁ, নির্মাণ শিল্প, রোগী সেবা ও শিশু সেবাসহ গৃহকর্মীর কাজ, কৃষি ও উৎপাদনসহ নানা খাতে কাজ করছেন তারা।