২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা। যা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বোর্ড অব পিসের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি। বোর্ডের গাজা প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত প্রবীণ বুলগেরীয় কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গাজায় হামাসসহ সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানান তিনি।
৮ মাসের এ পরিকল্পনাটি কয়েকটি ধাপে তৈরি করা হয়েছে। যেখানে উভয়পক্ষ একটি ধাপ পরিবর্তন করার পরেই পরবর্তী ধাপ শুরু হবে। চুক্তির প্রথম দুই সপ্তাহ ইসরাইল ও হামাসের সামরিক অভিযান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। এ পর্যায়ে ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির প্রতিনিধিরাও গাজায় প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
আরও পড়ুন:
প্রস্তাবের দ্বিতীয় পর্যায় ১৬ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে শুরু হবে। এ সময়ে হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি দলগুলোকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। পরিকল্পনার ৯০ দিনের মধ্যে হামাস তার টানেল নেটওয়ার্কও ধ্বংস করে দেবে। অন্যদিকে, ইসরাইলকে ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির অনুমোদিত স্থানগুলিতে অস্থায়ী আবাসিক ইউনিট নির্মাণের অনুমতি দিতে হবে।
পরিকল্পনার প্রথম তিন মাসে সব শর্ত পূরণ করার পর, পরবর্তী পর্যায়ে ইসরাইলি বাহিনী ধীরে ধীরে গাজার সীমানা থেকে সরে আসবে।
এ পর্যায়ে গাজা পুনর্গঠনের সম্পূর্ণ অনুমতি দেওয়া হবে এবং কংক্রিট, ইস্পাত, সার ও জ্বালানির মতো দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য উপকরণ প্রবেশের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে, তা গাজায় যুদ্ধ এবং হামাসের প্রায় দুই দশক দীর্ঘ শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটাবে বলে মনে করেন নিকোলাই ম্লাদেনভ।
এদিকে যতদিন গাজায় ইসরাইলের দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকবে, ততদিন অস্ত্র ত্যাগ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে হামাস। আরও বলেছে যে, নিরস্ত্রীকরণ ফিলিস্তিনির অভ্যন্তরীণ বিষয়, যা বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করা উচিত। হামাস এবং ইসরাইল এখন পর্যন্ত বোর্ড অব পিস নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনার অর্থ হলো কার্যত হামাসের রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ।
