বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই মিশর থেকেই রাফাহ ক্রসিং দিয়ে গাজায় প্রবেশ করে ফিলিস্তিনিদের বহনকারী বাস। দীর্ঘদিন পর জন্মভূমিকে স্পর্শ করতে পেরেছেন ফিলিস্তিনিরা। সেইসঙ্গে পেয়েছেন স্বজনদের দেখা। আনন্দ অশ্রুর মিশেলে গাজার আকাশে এক অন্যরকম ভোর।
এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘নিজের পরিবার, আত্মীয় স্বজনদের কাছে ফিরতে পেরে আমি আনন্দিত। আল্লাহকে ধন্যবাদ। তবে নিজের দেশের এই অবস্থা দেখে কষ্ট হচ্ছে।’
আরেক জন বলেন, ‘আমি আমার স্বামী, সন্তানের জন্য ফিরে এসেছি। এটা আমার দেশ। এতদিন আমি শান্তিতে ছিলাম না কারণ সেটা আমার জায়গা ছিল না।’
মিশর থেকে আসা বাসগুলো গাজার আবু নাসের হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে থামছে। সেখানেই অপেক্ষা করছেন দীর্ঘদিন ধরে প্রিয়জনের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন থাকা স্বজনরা।
আরও পড়ুন:
এদিকে রোববার থেকে রাফাং ক্রসিং আংশিক খুলে দেয়ার পর বুধবার রোগী পারাপার বন্ধ রাখে ইসরাইল। এতে আবারও উন্নত চিকিৎসার আশায় ভাটা পড়ে যুদ্ধাহত ও জটিল রোগে আক্রান্ত ফিলিস্তিনিদের।
এদিকে নামমাত্র যুদ্ধবিরতিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, নির্যাতন কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। বুধবার ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলায় একদিনেই ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে গাজার তুফাহ ও চাইতুন এলাকায় ইসরাইলি হামলায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়। দক্ষিণাঞ্চলে কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাবুতে হামলায় মারা গেছেন আরও চারজন। বিমান হামলা হয়েছে আল মাউসি উপকূলীয় এলাকায়ও। সেখানে প্রাণহানি হয় দুই ফিলিস্তিনির। রেড ক্রিসেন্টের এক সেচ্ছাসেবকও ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন।
গত কয়েক ঘণ্টায় গাজা জুড়ে সামরিক তৎপড়তা বেড়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
বুধবার ইসরাইল থেকে গাজার আল শিফা হাসপাতালে পৌঁছেছে ফিলিস্তিনি ৫৪ জনের মরদেহ। সেইসঙ্গে ৬৬টি বাক্সবন্দি দেহাবশেষও হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এসব মরদেহ হস্তান্তর করা হলো।





