চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে বন্দিবিনিময় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রেখেছে হামাস। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল জানিয়েছে, শনিবারের মধ্যে সব জিম্মিদের মুক্তি না দিলে যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর থাকবে না। তবে, এরমধ্যেই গাজাকে নরকে পরিণত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে গাজাবাসী বলছেন, ইতোমধ্যেই উপত্যকার পরিস্থিতি নরকের চেয়েও খারাপ। ১৫ মাসের এমন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ কখনোই দেখেনি বিশ্ববাসী। তাই চুক্তি লঙ্ঘন চলতে থাকলে এমন লোক দেখানো যুদ্ধবিরতির কোনো প্রয়োজন নেই।
স্থানীয় একজন বলেন, 'এখানের অবস্থা নরকের চেয়েও খারাপ। মানবসৃষ্ট সব ধরনের অপরাধই এখানে প্রয়োগ করা হয়েছে। এমন যুদ্ধ কী আগে কখনও বিশ্ববাসী দেখেছে?'
স্থানীয় অন্য একজন বলেন, 'আমাদের পাশে কেউই নেই। কিন্তু ইসরাইলিরা প্রতিনিয়ত চুক্তি লঙ্ঘন করছে। আমাদের সন্তানদের হত্যা করছে। আমাদের মনোবল ভেঙ্গে গেছে।'
হামাসের সঙ্গে সমঝোতা করে জিম্মিদের ফেরত আনতে বিক্ষোভ হয়েছে জেরুজালেমে। যেখানে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি নিয়ে সমালোচনা করেন বিক্ষোভকারীরা। যুদ্ধ পুনরায় শুরুর পরিবর্তে জিম্মিদের ঘরে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করতে নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
একজন ইসরাইলি বলেন, 'আমার মতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমাদের স্বজনদের ফিরে পাওয়া। হামাসকে হুমকি দেয়ার কোনো মানে নেই। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে।'
এমন পরিস্থিতিতে উপত্যকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক শানি রোজানেস বলেন, 'আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক বাহিনী উচ্চ সতর্কতার মধ্যে রয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বোঝাই যাচ্ছে ইসরাইল এই হুমকি বাস্তবায়নের জন্য মুখিয়ে আছে।'
এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে লেবাননে নিয়মিত ভিত্তিতে হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। জানুয়ারির শেষ ভাগে সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি।
আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি নতুন সময়সীমা দেয়া হলেও তা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ইসরাইল। আর এটি হয়ে থাকলে গাজার পাশাপাশি লেবাননেও পুনরায় যুদ্ধ শুরুর শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।