Recent event

অস্ট্রেলিয়ার পর স্পেন ও গ্রিসে শিশুদের সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের উদ্যোগ

অস্ট্রেলিয়ার পর স্পেন, গ্রিসে সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের উদ্যোগ
অস্ট্রেলিয়ার পর স্পেন, গ্রিসে সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের উদ্যোগ | ছবি: এখন টিভি
0

অস্ট্রেলিয়ার পর এবার শিশু-কিশোরদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধের পথে হাঁটছে স্পেন ও গ্রিস। বেশিরভাগ অভিভাবক এর পক্ষে মতামত দিলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া শিশু–কিশোরদের মাঝে। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এতে মৌলিক সমস্যার সমাধান রয়ে যাবে অধরা। তাই পরামর্শ দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে অস্ট্রেলিয়া। এবার তাদের দেখানো পথেই হাঁটছে স্পেন ও গ্রিস।

দেশগুলোর সরকারের দাবি, সামাজিক মাধ্যম শিশুদের সময় নষ্ট করার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্পেন ইতোমধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করার একটি প্রস্তাবও উত্থাপন করেছে। দেশটির এক জরিপ বলছে, প্রায় ৮২ শতাংশ নাগরিকই এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে। তবে কিশোর-কিশোরীদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

এক কিশোর বলেন, ‘আমি মনে করি এটা ঠিক আছে। একে অপরের সঙ্গে খেলাধুলা নিশ্চিত এবং পার্কে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করতে উৎসাহিত করার জন্য এটি একটি ভালো উদ্যোগ।’

আরও পড়ুন:

তবে ভিন্ন মত পোষণ করে একজন বলেন, ‘আমি নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। তবে আমি বিশ্বাস করি যে পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করলে সমস্যা হবা কথা না।’

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকার এমন একটি আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো ঘৃণামূলক বক্তব্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নির্বাহীদের ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা যাবে। অন্যদিকে, শিশু-কিশোরদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে গ্রিস। তবে এমন সিদ্ধান্তে মৌলিক সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করছেন ডিজিটাল অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

গ্রিসের ডিজিটাল অপরাধ বিশেষজ্ঞ কেলি ইওনো বলেন, ‘আমরা ১৫ বছরের কম বয়সীদের অনলাইনে থাকতে নিষিদ্ধ করতে পারি। কিন্তু এটি আসলে সমস্যার সমাধান করবে না। কারণ এই তরুণ বয়সে তারা আরও সৃজনশীল হতে পারে। তারা অনলাইনে থাকার বিকল্প উপায়ও খুঁজে পেতে পারে; যা আরও বিপজ্জনক প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। তাই সব সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর উপর আরও কঠোর হওয়া উচিত। যারা এ অ্যাপ্লিকেশনগুলো তৈরি করছে।’

এ বিষয়ে গত জানুয়ারিতে একটি বিল পাশ করেছে ফ্রান্সও। এছাড়া এর পক্ষে ভোট দিয়েছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্যরা। ডেনমার্কও আছে একই চেষ্টায়।

জেআর