সরকারের প্রথম মাসে সীমান্ত হত্যা শূন্য: প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বে বদলে যাওয়া পরিস্থিতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি: এখন টিভি
0

বিএনপি সরকারের প্রথম মাসে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নেমে আসা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হত্যাকাণ্ডের নৃশংস অতীতের প্রেক্ষাপটে এমন পরিস্থিতি কার্যকর নেতৃত্ব ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এক মাস পূর্ণ করেছে নতুন সরকার। এই এক মাসের খতিয়ানে সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির বিপরীতে গত এক মাসে বিএসএফের গুলিতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দায়িত্ব নেয়ার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে দেয়া কূটনৈতিক বার্তার কারণেই সীমান্ত পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিনা কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে সরকারের অবস্থান, পাশাপাশি বিজিবির অধিকতর সতর্কতা ও সক্রিয় ভূমিকা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমান এই শান্ত পরিস্থিতি অতীতের বিভীষিকাময় চিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিএসএফের গুলিতে ও নির্যাতনে অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হন, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানীর মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকার মর্মান্তিক ঘটনাও এখনো মানুষের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তিন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন:

এ প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে গত এক মাসে সীমান্তে প্রাণহানির কোনো ঘটনা না ঘটাকে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সীমান্ত হত্যা স্থায়ীভাবে শূন্যে নামিয়ে আনতে গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ এবং বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাহিনীটি সীমান্ত এলাকার জনগণকে অবৈধ অনুপ্রবেশ থেকে বিরত থাকতে এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধেও জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে। বিজিবি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকার চোরাই পণ্য, ২০টি বিদেশি অস্ত্রসহ গোলাবারুদ এবং বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

সীমান্তে প্রাণহানির শূন্যের এ ধারা দেশের মানুষের জন্য একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগে সীমান্ত এলাকা ভবিষ্যতে শান্তি ও সহযোগিতার প্রতীক হয়ে উঠবে।

এনএইচ