ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করছে রাশিয়ার ওপর: কিয়েভ ও ওয়াশিংটন

রাশিয়ার সেনা, ভ্লাদিমির পুতিন
রাশিয়ার সেনা, ভ্লাদিমির পুতিন | ছবি: সংগৃহীত
0

ইউক্রেনে শান্তি ফেরানোর বিষয়টি রাশিয়ার ওপরই ছেড়ে দিলেন কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিরা। ফ্লোরিডায় দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শেষে ইউক্রেন ও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যুদ্ধ বন্ধের বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করছে, রাশিয়া এটি বন্ধে কতটা আগ্রহী তার ওপর। এদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে দুদেশ। গতকাল (শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর) ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায় রাশিয়া। জবাবে রাশিয়ার বন্দর ও তেল শোধনাগারে হামলা চালায় ইউক্রেন।

ইউক্রেন-রাশিয়ার সংকট নিরসনে চলমান মার্কিন-ইউক্রেন বৈঠকের মাঝেই অব্যাহত রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাটি হামলা।

শুক্রবার ইউক্রেনের সামরিক, শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় রাশিয়া। জবাবে, একই দিন, রাশিয়ার একটি বন্দর ও তেল শোধনাগারে হামলা চালায় ইউক্রেন।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গেল সপ্তাহে তাদের বেসামরিক স্থাপনাগুলিতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলার জবাবে শুক্রবার এ হামলা চালায় রাশিয়া। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল, ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প স্থাপনা, জ্বালানি ও সামরিক পরিবহন অবকাঠামো, বিমানঘাঁটি এবং ড্রোন কারখানা।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আরও জানানো হয়, রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঁচটি দূরপাল্লার ‘নেপচুন’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, একটি মার্কিন-নির্মিত HIMARS রকেট এবং ১,১২০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

এছাড়া কৃষ্ণ সাগরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাতটি ইউক্রেনীয় চালকবিহীন নৌকা ধ্বংস করেছে রাশিয়ার নৌবাহিনী। পাশাপাশি, ইউক্রেনের পোকরোভস্ক এবং ভোলচানস্কসহ সাতটি আবাসিক এলাকা দখল করেছে রাশিয়া।

এদিকে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত, সম্মুখ সারিতে ১০৬টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে পোকরোভস্কের সংঘাতটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।

আরও পড়ুন:

দক্ষিণ রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি বন্দর এবং দেশটির সামারা অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে সফল হামলার দাবিও ইউক্রেনের।

এদিকে শনিবার টানা তৃতীয় দিনের মত ফ্লোরিডার মায়ামিতে আলোচনায় বসছেন, ইউক্রেনীয় এবং মার্কিন কর্মকর্তারা। এর আগে শুক্রবার বৈঠক শেষে দুপক্ষ জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করছে, রাশিয়ার এটি বন্ধে কতটা আগ্রহী তার ওপর।

এদিকে শুক্রবার, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও শীর্ষ ইউক্রেনীয় আলোচক রুস্তেম উমেরভের মধ্যে একটি গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।

এদিকে ভারত সফরে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে দনবাস অঞ্চল নিয়ে কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পুতিনের দাবি, দনবাসের ৮৫ শতাংশ অঞ্চল মস্কোর দখলে। এখন সেখান থেকে হয় ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রত্যাহার করতে হবে, তা নাহলে এটি জোরপূর্বক দখল করবে রাশিয়া। যুদ্ধ অবসানে মস্কো কোনও আপসে যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি পুতিনের।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জারেড কুশনার এবং ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা সচিব রুস্তেম উমেরভ ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আন্দ্রি হানাটভের মধ্যে এই বৈঠকটি ছিল দুই সপ্তাহের মধ্যে ষষ্ঠ দফা আলোচনা।

এসএস