একদিন আগেই ইউরোপের আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলনে ইউক্রেন ইস্যু এড়িয়ে উল্টো ইউরোপীয় নেতাদের তুলো ধুনো করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। চীন-রাশিয়ার সাথে তুলনা দিয়ে ইউরোপের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক এ আক্রমণ হতবাক করে মিত্রদের। কিন্তু চমকের যে আরও বাকি ছিল, সেটাই দেখিয়ে দিলো ট্রাম্প প্রশাসন।
ইউরোপকে বাদ দিয়েই ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসবে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন ও রাশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত কিথ কেলগ শনিবার এ ঘোষণা দেয়ার পরই ইউরোপীয় রাষ্ট্র নেতারা জরুরি বৈঠকের ডাক দিলেন।
ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করতে গিয়ে পুতিন প্রশাসনের সাথে ওয়াশিংটন ইউরোপের স্বার্থ বিরোধী কোনো চুক্তি করে বসে কি না, সেই শঙ্কায় বৈঠক বসছে ফ্রান্সে। পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মিশ্র বার্তা দেয়াকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।
জার্মানির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড্যানিয়েলা শোয়ার্জার বলেন, ‘একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে তোমাদের নিরাপত্তা তোমাদের সমস্যা। অন্যদিকে এটাও বলছে যে যুক্তরাষ্ট্র খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা শক্তি আর এসব আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়াকে ব্যক্তিগত অ্যাজেন্ডা বানিয়ে ফেলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা এমন যে দেশটি বিবদমান দু'টি পক্ষের মধ্যস্থতায় মূল ভূমিকা পালন করতে চায়। আবার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করায় সত্যিকার অর্থে আগ্রহী না হয়ে শান্তি প্রচেষ্টায়ও ইতি টানতে চায়।’
কয়েকশ' বছরের মিত্রতাকে ট্রাম্প প্রশাসনের বুড়ো আঙুল দেখানো গোটা ইউরোপে সৃষ্টি করেছে হতাশা, অবিশ্বাস আর আতঙ্কের এক মিশ্র অনুভূতি। আঞ্চলিক জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের সামরিক সুরক্ষা হারাবে অঞ্চলটি।
একইসঙ্গে ইউক্রেনসহ পুরো ইউরোপের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ইউক্রেন শান্তিচুক্তিতে সম্মত হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক এ পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের আভাস বলে মত বিশ্লেষকদের।
ড্যানিয়েলা শোয়ার্জার বলেন, ‘বিশ্ব রাজনীতির শৃঙ্খলা কাঠামো আর প্রধান শক্তিগুলোর অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তনের সাক্ষী হচ্ছি আমরা। এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রায় তিন বছর পর যুদ্ধ বন্ধের হাতছানি দেখছিল বিশ্ব। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সৌদি আরবে সম্ভাব্য রুশ-মার্কিন শান্তি আলোচনাতে খোদ ইউক্রেনই আমন্ত্রণ না পাওয়ায় ফিকে হয়ে গেছে অস্ত্র বিরতির সম্ভাবনা।
একইসাথে পশ্চিমা আধিপত্য বিরোধীদের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের আকস্মিক ঝুঁকে যাওয়া আভাস দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের বহুদিনের মিত্রতার হাওয়া বদলের।