হেবরন অবরুদ্ধ, তিন হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে বিতাড়িত করার অভিযোগ

হেবরন শহরে অভিযান
হেবরন শহরে অভিযান | ছবি: সংগৃহীত
0

এক সপ্তাহ ধরে নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের নামে অধিকৃত পশ্চিম তীরের শহর হেবরনকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইল। বন্ধ শহরটিতে প্রবেশ ও প্রস্থানের সব পথ। দিন কিংবা রাত সন্দেহ হলেই তল্লাশির নামে হয়রানি করা হচ্ছে বাসিন্দাদের। বাদ যাচ্ছে না সাংবাদিকরাও। এখন পর্যন্ত জোরপূর্বক শহরটির তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে বিতাড়িত করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। আটক শতাধিক। এদিকে হেবরনে ইসরাইলের চলমান অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ।

দৃশ্যটি বুধবারের। ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানে ভূতুরে নগরীতে পরিণত হওয়া হেবরনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন সাংবাদিকের ওপর চরাও হয়েছেন সশস্ত্র ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী। এক পর্যায়ে নির্যাতনের মুখে সংবাদকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে যেতে বাধাও দেয় বসতি স্থাপনকারীরা।

এক সপ্তাহ ধরে দিন কিংবা রাত, সন্দেহ হলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের শহর হেবরনের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাংবাদিক—সবার ওপরে হিংস্র হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা। বন্ধ শহরটিতে প্রবেশ ও প্রস্থানের সব পথ, এমনকি শহরটির এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়ার রাস্তাতেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে আইডিএফ। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালগুলোতেও যেতে পারছে না সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা কি মানুষ না। আমার জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু রাস্তা বন্ধ। পথেই থমকে আছি।’

সামরিক ক্যাম্প ও চেকপোস্ট বানানোর নামে এখন পর্যন্ত হেবরনের তিন হাজারের বেশি বাসিন্দাকে ঘরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে। আটক শিশু-নারীসহ শতাধিক। আর কেউ এর প্রতিবাদ করলে তার ওপরও চরাও হচ্ছে সেনাবাহিনী।

আরও পড়ুন:

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা কী করতে পারি। সেনাবাহিনী মাঝরাতে আমাদের জোর করে বের করে দিয়েছে। আমরা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে চলে এসেছি। সেনাদের জন্য আমাদের বাড়িগুলো খোলা রেখে এসেছি, ওরা ভেতরে যা খুশি তাই করছে।’

শুধু ঘরবাড়ি নয়, হেবরনের অর্থনীতির ভিত ভাঙতে বিনষ্ট করা হচ্ছে জলপাই গাছ। কৃষকদের জলপাই সংগ্রহেও বাধা দিচ্ছে ইসরাইলিরা। যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের শিল্প উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং রপ্তানি ৩০ শতাংশ হেবরন থেকে আসে।

এদিকে হেবরনে সামরিক অভিযান চালানোর মাধ্যমে ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।

তিনি বলেন, ‘ইসরাইলে নতুন যে সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, অবিলম্বে হেবরনে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

এছাড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে হেবরনে সামরিক অভিযানের নাটক সাজিয়েছে ইসরাইল। এর মূল লক্ষ্য শহরটি দখলে নেয়া। কেননা ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক দিক থেকে ফিলিস্তিন ও ইহুদি—উভয়ের কাছে হেবরন গুরুত্বপূর্ণ।

মূলত গত সপ্তাহে হেবরনে একটি চেকপয়েন্টে বন্দুকধারীদের গুলিতে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার জেরে নেতানিয়াহুর নির্দেশে শহরটিতে চলমান সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

এসএস