শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। ভাষণের শুরুতে শান্তির আহ্বান জানিয়ে আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকটে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে শেহবাজ জানান, আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও পাকিস্তানকে একসঙ্গে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল ইসলামাবাদ।
শুধু তাই নয়, ভারত-পাকিস্তান সম্ভাব্য সংঘাত বন্ধে শাহবাজ শরীফ কৃতিত্ব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃঢ়সংকল্প ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছিল।
এছাড়া অধিবেশনের ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকেও ছাড় দেননি। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির প্রবাহ অন্য দিকে সরিয়ে নেয়ার ভারতের যেকোনো প্রচেষ্টা যুদ্ধের শামিল হিসেবে গণ্য হবে। আর এ বিষয়ে নয়াদিল্লি কোন ভুল করবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।
শাহবাজ শরীফ বলেন, ‘পানিকে কখনোই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। নদীর কাজ হলো জাতিকে সমৃদ্ধ করা বিভক্ত নয়। পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির অংশ বন্ধ করা, বাধা দেয়া বা তার গতিপথ পরিবর্তন করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে যুদ্ধের সমতুল্য হিসেবে গণ্য করা হবে।’
আরও পড়ুন:
এছাড়া কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন শাহবাজ শরীফ। পাশাপাশি লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের ভাষণ দেন ইয়েমেনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ আবদুল কাদের।
তিনি বলেন, টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তে আশ্বাসের ওপর নির্ভর করা একটি ‘কৌশলগত ভুল’। যতদিন মিলিশিয়ারা ইয়েমেনের উপকূলবর্তী অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করবে ততদিন লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালী এবং এডেন উপসাগর ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে বলেও সতর্ক করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
এমন পরিস্থিতিতে দেশটির অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।





