অভিনেতার এহেন মর্মান্তিক পরিণতি আজ টালিগঞ্জের শিল্পী, কলাকুশলীদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়ার আর কোনো সদস্যকে এমন পরিণতির শিকার না হতে হয়, তা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গের আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস এন্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া (এফসিটিডাব্লিউইআই), ইম্পা এবং প্রযোজকরা একজোট হয়ে শিল্পী-কলাকুশলীদের নিরাপত্তার দাবিতে মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতির আহ্বান জানান। সেই ডাকে সাড়া দিয়েই মঙ্গলবার সকাল থেকে স্তব্ধ টলিপাড়া।
কর্মবিরতির ফলে নেই তারকাদের কোনো ব্যস্ততা বা কলাকুশলীদের হাঁকডাক। অন্যদিন ভোর থেকেই যেখানে লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন সচল থাকে, সেখানে এদিন সমস্ত শুটিং ফ্লোরে তালা ঝুলছে।
আরও পড়ুন:
তবে স্টুডিও চত্বরে কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীরা হঠাৎ করেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন যে, ফের কবে শুটিং শুরু হবে, তা নিয়ে। কারও অনুমান, এই অচল পরিস্থিতি কাটতে হয়তো একসপ্তাহ লাগতে পারে। যদিও নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিচারের দাবিতে এই কর্মবিরতিকে সর্মথন করেছেন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সবাই।
গত রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যার বৈঠকেই টালিগঞ্জের বিনোদন দুনিয়ার সব সংগঠন সম্মিলিতভাবে ৭ এপ্রিল থেকে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে কর্মবিরতি থাকলেও, এদিন সকাল থেকেই টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োতে হাজির ছিলেন শিল্পী-কলাকুশলীরা।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, সুমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্রীলেখা মিত্র, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, রাহুল মজুমদার, সৌমিতৃষা কুণ্ডু, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস থেকে ইমপা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত সবাই উপস্থিত ছিলেন, আর ছিলেন প্রয়াত রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও।
এফসিটিডাব্লিউইআই সভাপতি সরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘রাহুলের এভাবে চলে যাওয়াটা আমরা কোনোভাবে মেনে নিতে পারছি না। তার মৃত্যু নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা হচ্ছে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে যে চার-পাঁচজন কলা কুশলী পানিতে নেমেছিলেন তাদের মধ্যেও কোনো অঘটন যদি ঘটে যেত তাহলে তার দায় কে নিতো?’





