ইরানে ফের হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের, প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান

যুদ্ধ বিমান
যুদ্ধ বিমান | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানে ফের হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আর ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে স্থগিত রাখা হয়েছে হামলা। হামলার শঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরানও। এরই মধ্যে ইরান সীমান্তে যুদ্ধবিমান উড়িয়ে সামরিক শক্তি জানান দিয়েছে ইসরাইল। অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিলেও দেশটির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। যদিও তেহরানের দাবি পূরণ না হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়, জানান ইরানি প্রেসিডেন্ট।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, পেন্টাগন ও ইসরাইলের সামরিক বাহিনী ইরানে তিন দিনব্যাপী তীব্র বিমান হামলা চালানোর একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। যেখানে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন কারখানা, জ্বালানি অবকাঠামো ও আইআরজিসির সদর দপ্তরকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হয়। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই এ পদক্ষেপের শঙ্কা রয়েছে।

এবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একই আশঙ্কার কথা জানালেন। তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধ শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার বিষয়ে আরাঘচি জানান, কাতার-পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে তার দেশ কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। ওয়াশিংটন যদি ন্যায্য সমাধানে পৌঁছানোর ইচ্ছা দেখায় তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে আরও একটি কূটনৈতিক সমঝোতার সুযোগ দিতে প্রস্তুত।

এরমধ্যেই ইরান সীমান্তে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান উড়িয়ে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করলো ইসরাইল। ইসরাইলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সিরিয়া-ইরাকের আকাশসীমা অতিক্রম করে ইরান সীমান্তের একদম কাছাকাছি এসব যুদ্ধবিমান মহড়া দেয়।

এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত, শিগগিরই ফলাফল জানা যাবে। যদিও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, তেহরানের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফরে এ কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। এছাড়া ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ দ্য জেনারেল স্টাফের হুশিয়ারি, তার দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো নতুন আগ্রাসনের আরও কঠোর জবাব দেয়া হবে।

এই যখন অবস্থা তখন, ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। এ দফায় ইরানের ৫ ব্যক্তি, ৪টি কোম্পানি এবং ৯টি জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকার্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে ইরানের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা তেল পরিবহনে যুক্ত ১৭টি জাহাজ ও বেশ কয়েকজন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানান,ঙ্গেল ফেব্রুয়ারিতে ইরানের মিনাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন সামরিক হামলার ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ফলাফল যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে। এদিন স্কুলটিতে মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিশুসহ ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।

সৌদি আরবে হুথিদের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের উদ্বেগের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১১০ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৮ দশমিক ৫৮ ডলার হয়েছে।

আরেকদিকে, ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে হুথি হামলায় শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক হতাহতের খবর মিলেছে। তাইজের দক্ষিণে সৌদি বাহিনীর বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন হুথি যোদ্ধা আহত হয়েছে। ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বেসামরিক নাগরিকদের হুথি-আয়োজিত সমাবেশ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের জনসমাগমকে ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ বিবেচনা করা হবে।

জেআর