গত (শনিবার, ১০ অক্টোবর) রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত ও অন্তত ৩০০ জন আহত হন। এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবের ওপর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পাল্টা হামলায় যোগ দেয়ার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। সৌদি আরবের মিত্র জোট মক্কা প্যাক্টের দেশগুলোও সমর্থন জানিয়েছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা যান গত মঙ্গলবার। জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে সেদিন তিনি রক্ত দিতে এসেছিলেন।
এরপর থেকে তিনি বাঙ্কারযুক্ত কড়া পাহারায় প্রাসাদগুলোর মধ্যে যাতায়াত করছেন। যুবরাজের গতিবিধি সম্পর্কে অবহিত কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকা এবং সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই তীব্র হওয়ার মধ্যে যুবরাজের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে বাছাই করা একটি দলও। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
হুথির এক মুখপাত্র বিমানবন্দরে হামলার পক্ষে অবস্থান আরও জোরালো করেছেন এবং সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালানোর অভিপ্রায় পুনরায় ব্যক্ত করেছেন। বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত পাঁচ দিনে চারবার হামলা হয়েছে। শনিবার সপ্তাহান্তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে। বিমানবিষয়ক বিশ্লেষণ সংস্থা সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রিয়াদ বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল হতে পারে।
সৌদি মিডিয়া মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সিসিটিভি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, শনিবার বিমানবন্দরের একাংশে আগুন ও ধোঁয়ায় ছেয়ে যাওয়ার সময় যাত্রীরা আত্মগোপন করছেন। সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, হামলার গুরুত্ব বিবেচনায় সৌদি আরবের জবাবও ‘সমানভাবে গুরুতর’ হবে। কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন হামলা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টরের মজুতও কমে আসছে।
গত মাসে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ফ্রান্স, ব্রিটেন, পাকিস্তান ও মিসরকে এই অঞ্চলে বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি আরব। একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতও কমে গেছে। দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গৃহযুদ্ধ চলেছে। ২০২২ সালে ভঙ্গুর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। এ বছরের জুলাইয়ে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেই চুক্তি ভেঙে পড়ে। ইরান থেকে একটি বিমান অবতরণের সময় সানা বিমানবন্দরে সৌদিরা গুলি চালিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে হুথিরা হামলা শুরু করে।
ইরানের সমর্থিত হুথিরা এই অঞ্চলে ইরানের সবচেয়ে বেশি অস্ত্রসজ্জিত মিত্রদের একটি। ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ‘আরব উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়ে তেহরান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ তিনি আরও বলেছেন, লড়াই ‘ইসরাইলি শাসনব্যবস্থারই উপকারে আসবে।’
রোববার রাতে সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা লড়াই বাড়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সামরিক পথে জোর দেয়া ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি উপেক্ষা করার বিরুদ্ধে তিনি সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, সৌদি ও হুথিদের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে তেহরান সহায়তা করবে। সৌদি আরব ও হুথিরা ২০১৫ সালে লড়াই শুরু করে। ওই বছর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সরকারের পক্ষ নিয়ে দেশটিতে ঢুকে পড়ে সৌদি আরব।





