যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট গত মাসে দাবি করেছিলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে ইরানের সব উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যে দেশটির বিক্রির মতো কোনো তেল অবশিষ্ট থাকবে না। বাস্তবে ইরানের অর্থনীতি চাপে পড়লেও ট্রাম্প প্রশাসনের দেয়া সেই সময়সীমা পূরণ হয়নি। নতি স্বীকারের বদলে অর্থনৈতিক ধাক্কা সহ্য করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড় রয়েছে তেহরান।
ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে দেশটির তেল রপ্তানি সর্বনিম্নে নেমেছে, যার ফলে প্রতি মাসে শত শত কোটি ডলারের রাজস্ব হারাচ্ছে তেহরান। তবে গত জুনের যুদ্ধবিরতির সময়ে মজুত করা তেল বিক্রি এখনো চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। বৈশ্বিক জ্বালানি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, তেহরান এখনো সড়কপথে প্রতিদিন প্রায় আড়াই লাখ ব্যারেল তেল দেশের বাইরে পাঠাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরাতে দুই মাস ধরে এই অর্থনৈতিক চাপ চালানো হচ্ছে। তবে নিজেদের অবস্থানে অনড় ইরানি কর্মকর্তাদের কারণে আলোচনা থমকে রয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে তেহরান। সেখানে এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত নয়টি জাহাজে আঘাত হেনেছে তারা।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর ইরানি বিমান চলাচলের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি করে ওয়াশিংটন। ওই সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে সব ইরানি এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়ে যাবে। ইরানকে যারা সহায়তা করছে তাদের বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা জানি তারা কারা, তারাও জানে তারা কারা এবং আমরা এটা বন্ধ করতে যাচ্ছি।’





