ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পুনর্গঠন করে আগের চেয়ে আরও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ দেয়ার মতো কোনো চুক্তি হবে, নাকি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দ্রুত নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে সেটিই এখন তার সামনে বড় সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, তার সামনে একটি বড় সিদ্ধান্ত রয়েছে। ইরান এমন একটি চুক্তিতে যাবে কি না, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠন করে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হতে পারবে, নাকি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে ইরান আর মানুষ ও দেশের ক্ষতি করতে না পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে তার মন্তব্যকে প্রচারণা বলে অভিহিত করেছে। তারা বলেছে, আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর, বিধ্বংসী ও অনিশ্চিত পাল্টা আঘাত হানার জন্য ইরান প্রস্তুত।
এর মধ্যেই প্রায় সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা দিনভর দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ করেছেন। আলোচনাগুলো গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের প্রস্তাব
ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে পারে তেহরান।
ওই কর্মকর্তা বলেন, গত সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া সম্ভব।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফও বলেছেন, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি বলেন, ট্রাম্পকে বুঝতে হবে, ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর ওপর নিজের শক্তি চাপিয়ে দেয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সংঘাত
ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের বৈঠকে কাতারের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবটিতে ইরান ও আরব উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে একটি অভিন্ন নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি বলেছেন, এ ধরনের ব্যবস্থায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয় থাকতে হবে।
এদিকে ইরানের মিত্র হুথি যোদ্ধারা ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে পিছু হটিয়ে এগিয়ে যাওয়ায় সৌদি আরবও সংঘাতে আরও জড়িয়ে পড়েছে। এতে লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি হুমকির মুখে পড়েছে।
গত বছর দুই মাস ধরে হুথিদের ওপর বিমান হামলা চালালেও যুক্তরাষ্ট্র এবার সৌদি আরবের বারবার অনুরোধের পরও যুদ্ধে আবার সরাসরি যুক্ত হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় সৌদি আরবকে সমর্থন করবে। তবে হুথিদের সঙ্গে সংঘাতটি অত্যন্ত জটিল এবং এর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। ফলে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে ব্যাহত হওয়া তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে ইয়ানবু বন্দর থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আবার তেল রপ্তানি শুরু হতে পারে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে সূত্র।





