টানা তিন দিনের ভোটগ্রহণ রোববার শেষ হয়। সোমবার প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, গত ২৫ বছর ধরে রাশিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসা ইউনাইটেড রাশিয়া এবারও নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
তবে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এ নির্বাচনে প্রকৃত বিরোধী শক্তিগুলোর প্রায় সবাইকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে রাখা হয়। ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ায় অসন্তোষ বাড়লেও নির্বাচনের ফল পুতিনের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। একই বছর মস্কোর দখল ও অবৈধভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ইউক্রেনের চার অঞ্চলের বাসিন্দাদেরও প্রথমবার এ নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। মস্কো থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক দিমিত্রি মেদভেদেঙ্কো জানান, এ ফল ও ভোটার উপস্থিতিকে ক্রেমলিন নিজেদের কর্মকাণ্ড এবং বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রতি জনসমর্থনের প্রমাণ হিসেবে দেখাতে পারে।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান এলা পামফিলোভা জানান, দেশটির একমাত্র নিবন্ধিত যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াবলোকো জাতীয় পর্যায়ে কোনো আসন পায়নি। গত মাসে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট দলটিকে দলীয় তালিকার ভোট থেকে বাদ দেয়। তবে একক আসনের কয়েক ডজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলটির প্রার্থী ছিলেন।
পশ্চিম রাশিয়ার নভগোরদ অঞ্চলের পার্লামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে ইয়াবলোকো। দলটি জানিয়েছে, সেখানে তারা প্রায় ১২ হাজার বা ৬ শতাংশের কিছু বেশি ভোট পেয়েছে।
কমিউনিস্ট পার্টি ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে স্টেট ডুমায় ৪০টি আসন নিশ্চিত করেছে। জাতীয়তাবাদী এলডিপিআর পেয়েছে ২৫টি এবং নিউ পিপল পার্টি ২০টি আসন। ইয়াবলোকো ও কমিউনিস্ট পার্টির অভিযোগ, তাদের অনেক পর্যবেক্ষককে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থাকে (ওএসসিই) আমন্ত্রণ জানায়নি রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে সংস্থাটির বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতি অনুসরণের অভিযোগ করেছিল। ওএসসিই পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট পেরে জোয়ান পনস বলেন, পর্যবেক্ষকদের বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত সদস্যদেশ হিসেবে রাশিয়ার অঙ্গীকারের লঙ্ঘন।
মস্কোর অনেক বাসিন্দা অবশ্য নির্বাচনের ফলে বিস্মিত হননি। তাতিয়ানা নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘সকালে দেখলাম ইউনাইটেড রাশিয়া এগিয়ে রয়েছে। এতে সম্ভবত কেউই অবাক হয়নি।’ ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ উপায়ে যত দ্রুত সম্ভব সংঘাতের অবসান চান তিনি।
কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের তাতিয়ানা স্তানোভায়া বলেন, পুতিন এ ফলকে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনের প্রমাণ হিসেবে ব্যাখ্যা করবেন। তবে বাস্তবে যুদ্ধ বন্ধের দাবি বাড়ছে। নির্বাচনের পর নতুন করে সেনা সমাবেশ, দমন-পীড়ন, কঠোর ব্যবস্থা ও সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পশ্চিমা দেশগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস একে রাশিয়ার তথাকথিত নির্বাচন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ক্রেমলিন ভিন্নমত স্তব্ধ করেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতাকারী একমাত্র নিবন্ধিত দলকে বাদ দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বাইরে রেখেছে।’
অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ পাঁচ দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনীয় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে প্রহসন বলে নিন্দা জানিয়েছে। দেশগুলো বলেছে, এ নির্বাচন ইউক্রেনের ওই অঞ্চলগুলোতে রাশিয়ার দখলদারত্বের বৃহত্তর ব্যবস্থার অংশ।





