তিন বছর পর সুদের হার বাড়ালো মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ

ফেডারেল রিজার্ভ
ফেডারেল রিজার্ভ | ছবি: সংগৃহীত
0

মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে দীর্ঘ তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম সুদের হার বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং রেকর্ড মূল্যস্ফীতির মুখে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

গত গতকাল (বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর) ফেড সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট (শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ) বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এর ফলে নীতি নির্ধারণী সুদের হার বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুদের হার কমানোর জন্য বারবার চাপ দেয়া সত্ত্বেও ফেড এই পদক্ষেপ নিলো।

এক বিবৃতিতে ফেডারেল রিজার্ভ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ভালো গতিতে এগোচ্ছে। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে কেনাকাটা ও খরচের প্রবণতা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি এখনো অনেক বেশি। মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নামিয়ে এনে বাজারে দামের স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ফেড কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলতি বছর সুদের হার আরও একবার বাড়ানো হতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে গত আগস্টে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ, যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের বিপুল বিনিয়োগের কারণে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে।

এদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েই চলেছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৯ ডলারে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম বেড়ে গড়ে ৪ ডলার ৩৬ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ৩১ সেন্টে ঠেকেছে, যা এক বছর আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। এর ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়ে বাজারে অন্যান্য পণ্যের দাম আরও বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বেড়ে ৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ হয়েছে, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ মূল্যস্ফীতি ও ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপের কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। সুদের হার বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার ১ শতাংশ বা তার কম হওয়া উচিত, কারণ আমাদের দেশ বিনিয়োগে ভাসছে।’ তবে পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ওয়ারশের ওপর আস্থা রয়েছে বলে জানান।

এএম