জেনারেল মান জানান, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে হামলার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো চিহ্নিত ও বাজেয়াপ্ত করে। বর্তমানে ফরেনসিক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা হামলার পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করতে কাজ করছেন।
এছাড়া, ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের অনুমতিক্রমে এ ঘটনার তদন্ত ও পর্যালোচনায় ইরান যুক্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বাগদাদ সরাসরি রিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
বিবৃতিতে জেনারেল মান আরও বলেন, ‘ইরাক ‘‘প্রতিরোধমূলক সার্বভৌমত্ব’’ নীতিতে বিশ্বাসী। অর্থাৎ, শুধু নিজের ভূখণ্ড রক্ষাই নয়, বরং ইরাকের মাটিকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না এবং কোনো প্রক্সি যুদ্ধে (প্রতিনিধি যুদ্ধ) ইরাক অংশ নেবে না।’
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার ইরাক থেকে উৎক্ষেপিত বেশ কিছু ড্রোন রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে আঘাত হানে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ পরিবহনকারী এবং ‘স্ট্রেট অব হরমুজ’ এড়িয়ে তেল সরবরাহের প্রধান পথ এ পাইপলাইনটি সতর্কতা হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে বাগদাদের অনুরোধে সৌদি আপাতত এ হামলার পাল্টা কোনো সামরিক পদক্ষেপ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সৌদি আরব এ ড্রোন উৎক্ষেপণের উৎস হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব ইরাকের মেসান প্রদেশকে চিহ্নিত করেছে, যা ইরান সীমান্তের কাছাকাছি এবং যেখানে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্ত প্রভাব রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আমারা শহরের পূর্বে আল-তায়েব সীমান্ত এলাকা, দুওয়াইরিজ নদী এবং তায়েব দ্বীপ সংলগ্ন অঞ্চল থেকে ড্রোনগুলো ছোঁড়া হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ। লক্ষ্যবস্তু স্থানগুলো মদিনা থেকে প্রায় ১,১০০ কিলোমিটার এবং রিয়াদ থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় দূরপাল্লার উন্নত প্রযুক্তি সম্বলিত ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরাকি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তা তল্লাশির অংশ হিসেবে ইরান সীমান্তবর্তী শালামচেহ, চাজাবেহ ও মানদালির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে মানবিক কারণে সীমিত পরিসরে পুনরায় খুলে দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি মেসান প্রদেশসহ সীমান্ত অঞ্চলের একাধিক সামরিক কমান্ডারকে পুনর্বিন্যাস করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক সালিম জাখুর বলেন, ‘সৌদি আরব সরাসরি সামরিক উত্তেজনার দিকে না গিয়ে ইরাক সরকারের মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নিয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে হুতিদের অগ্রসর হওয়া এবং একই সঙ্গে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার ফলে রিয়াদ কৌশলগতভাবে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে পড়ে গেছে, যা মোকাবিলায় তাদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।





