১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ডের যুক্তরাজ্য ত্যাগের বিষয়ে গণভোট কেবল ব্রিটিশ সরকারের বিবেচনার ভিত্তিতেই হতে পারে। এর মধ্যে দিয়ে একীভূত আয়ারল্যান্ডের পক্ষে এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে রাখতে চায়, তাদের মধ্যে তিন দশকের সহিংসতার অবসান ঘটে। জনমত জরিপে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে। যদিও, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে এই ব্যবধান কিছুটা কমেছে।
এই শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে বড় ভূমিকার রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার দুইদিনের সফরে আয়ারল্যান্ডে গিয়ে দুই আয়ারল্যান্ডকে এক করে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আশা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাজ্যশাসিত উত্তর আয়ারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত এক হয়ে যাবে।
ডাবলিনে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, দুই আয়ারল্যান্ড এক হলে বিষয়টি দারুণ হবে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের মতামত গুরুত্বপূর্ণ বলেও স্বীকার করেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি ফকল্যান্ড দ্বীপের সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার চলমান বিরোধকে সম্ভাব্য বিপর্যয় হিসেবেও বর্ণনা করেন।
গেল সপ্তাহে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, দ্বীপগুলোর ওপর ব্রিটেনের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এদিকে, উত্তর আয়ারল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, এ বিষয়ে নতুন করে গণভোট আয়োজনের মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। আর উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজনীতিবিদদের মতে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা কেবল জনগণের। লন্ডন, ডাবলিন বা ওয়াশিংটনের নয়।
ট্রাম্পের সফর ঘিরে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে বিক্ষোভে নামেন শত শত মানুষ। ট্রাম্প-বিরোধী প্ল্যাকার্ড হাতে এবং ফিলিস্তিনি পতাকা নেড়ে বিক্ষোভকারীরা বলেন, ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানানো উচিত হয়নি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। ট্রাম্প দেখা করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলির সঙ্গেও। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম কট্টর ফিলিস্তিনপন্থী দেশ আয়ারল্যান্ড।





