ইয়েমেন সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে মক্কা চুক্তি সক্রিয় হবে, বললেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর এক সদস্য ভারী মেশিনগান দিয়ে গুলি ছুড়ছেন
সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর এক সদস্য ভারী মেশিনগান দিয়ে গুলি ছুড়ছেন | ছবি: সংগৃহীত
0

সৌদি আরবে যেকোনো হামলা হলে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কয়েকদিন পর তিনি এ কথা বলেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজকে তিনি বলেন, ‘যদি কোনো অকারণ আগ্রাসন হয়, অথবা ইয়েমেনে যা ঘটছে তা সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে অবশ্যই মক্কা চুক্তি কার্যকর হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। আমরা এই চুক্তির শর্তাবলিতে আবদ্ধ এবং প্রয়োজনে তা পালন করব।’

মঙ্গলবার ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায়। সৌদি আরব জানিয়েছে, এতে কমপক্ষে ৭৩ জন আহত হয়েছেন। ইরান-সমর্থিত হুথি এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্রতর হয়েছে।

গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নেতারা মক্কা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এতে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ জোরদারের অঙ্গীকার করা হয়। চুক্তিটি ন্যাটোর একটি মূল ধারার অনুরূপ—কোনো সদস্যের ওপর হামলা হলে তা পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট কৌশল এখনো স্পষ্ট নয়।

ইসরাইলের সম্প্রসারিত সামরিক সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই চুক্তি হয়। ২০২৬ সালের গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, তিন দেশের মিলিত সক্রিয় সেনা প্রায় ১৪ লাখ, সামরিক বিমান প্রায় ৩ হাজার ৪০০, ট্যাংক ৬ হাজার এবং নৌসামর্থ্য ৩৪০টির বেশি।

বুধবার হুথি পরিচালিত আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের মারিব, আল-জাউফ ও তাইজ প্রদেশে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। আল-জাউফের খাব ও শা’আফ জেলায় পাঁচটি, মারিবের সিরওয়াহ জেলায় ১০টি এবং তাইজের আল-বারহ এলাকায় পাঁচটি হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সৌদি বাহিনী তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

২০২২ সালে জাতিসংঘ-মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর এটাই সবচেয়ে বড় সংঘাত। ২০১৪ সালে হুথিরা সানায় দখল নেওয়ার পর ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়। কূটনীতিকরা আশা করেছিলেন, যুদ্ধবিরতি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে রূপ নেবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

গত জুলাইয়ে সরকারি বাহিনী সানার হুথি-নিয়ন্ত্রিত বিমানবন্দরে হামলা চালালে লড়াই আবার শুরু হয়। গত সপ্তাহে হুথিরা পশ্চিম তাইজ ও দক্ষিণ হোদেইদাহ দিয়ে আল-মাখা বন্দর ও লোহিত সাগরের বাব-এল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার বড় অভিযান শুরু করে। হুথিরা ওই জলপথ দিয়ে সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা করেছে।

এএম