স্বায়ত্তশাসিত অস্ত্রের বৈশ্বিক নিয়মে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার বাধা, অনিশ্চয়তায় জেনেভা সম্মেলন

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন | ছবি: রয়টার্স
0

স্বায়ত্তশাসিত প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক নীতিমালা তৈরির লক্ষ্যে জেনেভায় চলমান বৈশ্বিক সম্মেলন কোনো ঐকমত্য ছাড়াই শেষ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কূটনীতিকেরা। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তীব্র বিরোধিতার কারণেই এ সংক্রান্ত চুক্তি বা খসড়া দলিল চূড়ান্ত হওয়া নিয়ে এই গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ আয়োজিত কনভেনশন অন সারটেইন কনভেনশনাল ওয়েপনস (সিসিডব্লিউ)–এর সদস্য ১২৮টি দেশ এ সপ্তাহে বৈঠকে বসেছে। নির্বিচার ও মারাত্মক ক্ষতিকারক অস্ত্র নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এই ফোরাম। সম্মেলনে প্রাণঘাতী স্বায়ত্তশাসিত অস্ত্র ব্যবস্থা বা লিথাল অটোনোমাস ওয়েপনস সিস্টেমস (এলএডব্লিউএস) নিয়ন্ত্রণে বাধ্যতামূলক আলোচনার দ্বার উন্মোচন করতে একটি বাধ্যবাধকতাহীন চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে।

ইউক্রেন, সুদান ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও আঘাত হানতে সক্ষম আধা-স্বায়ত্তশাসিত অস্ত্রের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও স্টপ কিলার রোবটস প্ল্যাটফর্মের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় পরিচালিত এসব অস্ত্রের গতিবিধি অনেক সময়ই অনুমানের বাইরে চলে যায়, যার ফলে চরম প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়।

সম্মেলনে অংশ নেয়া অধিকাংশ দেশই একটি যৌথ খসড়া দলিলের পক্ষে মত দিলেও শেষ মুহূর্তে তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন ও অনুচ্ছেদ বাদ দেয়ার প্রস্তাব এনেছে ওয়াশিংটন ও মস্কো। কূটনীতিকদের মতে, বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তির পরিবর্তে একটি সাধারণ নির্দেশিকা তৈরির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অবস্থানকে সমর্থন জোগাচ্ছে রাশিয়া, ভারত ও তুরস্ক।

অন্যদিকে ব্রাজিল, আয়ারল্যান্ডসহ আফ্রিকার বেশ কিছু দেশ স্বায়ত্তশাসিত অস্ত্রের ক্ষেত্রে মানুষের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তির দাবি জানিয়েছে। এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রেসিডেন্ট মির্জানা স্পলিয়ারিচ এগার সতর্ক করে বলেছিলেন, মানুষের কোনো অংশগ্রহণ ছাড়াই যন্ত্র যখন মানুষ হত্যার সিদ্ধান্ত নেবে, বিশ্ব তখন এক বিপজ্জনক নৈতিক সীমানায় পৌঁছাবে।

এএম