মৃত্যুর হাত থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ৬৮ বছর বয়সী নেপালি নাগরিক কেশব প্রসাদ বারাল এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেই ভয়াল মুহূর্তের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, 'আমাদের দিকে হঠাৎ পাহাড়ের সমান উঁচু কাদার স্রোত ধেয়ে আসে। ঘরে কাদা ঢুকতে দেখে স্ত্রীকে নিয়ে দোতলায় ওঠার জন্য হাত ধরেছিলাম। কিন্তু কাদার তোড়ে চোখের সামনেই সে ভেসে গেল।' চার ঘণ্টা পর সেনাসদস্যরা হেলিকপ্টারে করে কেশবকে উদ্ধার করলেও তার স্ত্রী কাদার নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন বলে জানান তিনি। আরেকজন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি জানান, একটি আমগাছ আঁকড়ে ধরে তিনি নিজেকে রক্ষা করেছেন, আর চোখের সামনে ধসে পড়তে দেখেছেন তার কাজের জায়গাটি।
হিমালয় অঞ্চলের পর্যটন ব্যবসায়ী ও একটি পর্যটন সংস্থার প্রধান নির্বাহী সাগর পান্ডে হেলিকপ্টারে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে এসে বলেন, ‘সেখানে মানুষের তৈরি কোনো স্থাপনা বা বসতির আর অস্তিত্ব নেই। সবকিছু একদম সমতল হয়ে গেছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ কিংবা গাড়িতে যারা ছিলেন, তাদের কেউ আর বেঁচে আছেন বলে মনে হয় না।’
নিখোঁজ দেড় হাজার মানুষের মধ্যে ৭০০ জনেরও বেশি বিদেশি নাগরিক। তাদের একটি বড় অংশ হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান তিব্বতের কৈলাশ মানসরোবরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কেবল নেপালেই নিখোঁজ ৮২৬ জনের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ক্যানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০০ জন পর্যটক রয়েছেন। ওদিকে তিব্বতের গিরোং কাউন্টিতে আরও ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি। সেখানে চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগকারী বেল্ট অ্যান্ড রোড নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কাদার নিচে তলিয়ে গেছে।
উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাসদস্যদের সঙ্গে অংশ নিয়েছে প্রতিবেশী ভারত। হেলিকপ্টার থেকে দুর্গম এলাকায় তাঁবু, খাবার ও জরুরি ওষুধ ফেলা হচ্ছে। ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই বন্যাকে চরম বিধ্বংসী বলে বর্ণনা করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্ধারকাজে দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র জরুরি সহায়তা হিসেবে ৫ লাখ ডলার দেয়ার কথা জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেন, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দুর্গম ওই এলাকা থেকে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ও উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্প নয়, বরং হিমবাহের বিশাল বরফ ও পাথর ধসে লেন্দে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে একপর্যায়ে তা ফেটে গিয়ে এই ধ্বংসাত্মক বানের জন্ম দেয়। স্বজনদের খোঁজে নুয়াকোট ও ধাদিং এলাকার সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়েছেন শত শত মানুষ, যেখানে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো ঘন ঘন যাতায়াত করছে।

 and after images of the Betrawati area in Nepal-320x167.webp)



