বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেসের প্রবীণ এই নেতা রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে পৌঁছালে সেখানে যাওয়ার সড়কজুড়ে শত শত সমর্থক ভিড় জমান। এ সময় দেউবা তাদের উদ্দেশে হাত নেড়ে ও হাসিমুখে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর নতুন সরকারের অধীনে দুর্নীতির অভিযোগে যে সব রাজনৈতিক রথী-মহারথী কাঠগড়ায় দাঁড়াচ্ছেন, দেউবা তাদের মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন। গত এপ্রিলে অর্থপাচারের অভিযোগে ৮০ বছর বয়সী এই নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে পুলিশ। ফেব্রুয়ারিতে নেপাল ছেড়ে যাওয়া দেউবা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, দেউবার মামলাটি এখন অর্থপাচার তদন্ত বিভাগ দেখছে। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় বিমানবন্দরে ও তার সমাবেশে আমরা তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছি।’ এর পাশাপাশি দেউবার স্ত্রী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ বিক্ষোভের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে তরুণদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বালেন্দ্র শাহ বড় জয় পান। এই জয়ের এক মাস পর দেউবা দম্পতির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দলের কনিষ্ঠ সদস্যরা নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য চাপ দিলে নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দেউবার মেয়াদ শেষ হয়।
একের পর এক রথী-মহারথী কাঠগড়ায়
ক্ষমতায় আসার পর থেকে শাহ প্রশাসন উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। গত মার্চে সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ দমনে ভূমিকা রাখার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে অল্প সময়ের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ঘটনার জেরে হিমালয়ের দেশটিতে তরুণদের নেতৃত্বে ওই গণ-অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল। তবে এর পেছনে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক দুর্দশার ক্ষোভও কাজ করেছিল। বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবন ও অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তৎকালীন সরকারের পতন ঘটায়। দেউবার বাড়িও সে সময় আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং বিক্ষোভকারীরা এই দম্পতির ওপর হামলার ভিডিও ব্যাপকভাবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ি থেকে বান্ডিল বান্ডিল নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিক্ষোভ তদন্তে গঠিত কমিশনের কাছে দেয়া সাক্ষ্যে দেউবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোকে সাজানো হতে পারে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ষড়যন্ত্র। যদিও এর পেছনে কে আছে তা আমি জানি না।’ কমিশন দেউবার বাড়িসহ অন্যান্য সম্পত্তিতে পাওয়া নগদ অর্থের বিষয়ে আরও তদন্তের সুপারিশ করেছে।





