মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত দিলেও যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো আভাস মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং শেয়ারবাজার নিম্নমুখী রয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৯১ ডলার এবং মার্কিন ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৮৩ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে।
লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে হামলা
ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে সন্দেহভাজন হুতি হামলায় একটি ছোট মালবাহী জাহাজের চারজন কর্মী নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, হুতি-বিরোধী একটি সামরিক গোষ্ঠীর দুজন উদ্ধারকর্মীও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মিসরের মালিকানাধীন ‘তিহামা’ নামের এই জাহাজে হুতিদের হামলায় প্রথম প্রাণহানির ঘটনা এটি। হুতি পরিচালিত সংবাদ সংস্থা ‘সাবা’ আরও জানিয়েছে, বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে সামরিক সরঞ্জামবাহী একটি সৌদি জাহাজেও তারা হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইউএস নেভির একটি এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে পানামার পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজের স্টিয়ারিং গিয়ার অকেজো করে দিয়েছে। ইরানি বন্দরগুলোর ওপর জারি করা নৌ-অবরোধ লঙ্ঘন বন্ধ করতে বারবার হুঁশিয়ারি দেয়া সত্ত্বেও ওই জাহাজটি তা উপেক্ষা করছিল বলে জানিয়েছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড। সামুদ্রিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে ঢোকার সময় পাকিস্তানের উপকূলের কাছে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়।
দুই পক্ষের কড়া বার্তা
গত দুই দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই কঠোর বক্তব্য দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি মঙ্গলবার বলেছেন, ইরানের জব্দ থাকা সম্পদ ফেরত দেয়া এবং লেবানন ও গাজাসহ অঞ্চলজুড়ে চলমান সংঘাত বন্ধ করা—এই শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্র মেনে না নিলে হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।
সোমবার ট্রাম্প নতুন এক দাবিতে জানিয়েছেন, গত ৫০ বছরের যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহতদের জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মঙ্গলবার ওহাইও সফর শেষে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানে সব ঠিকঠাক চলছে। আমরা পুরোপুরিভাবে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছি। এখানে অন্য কেউ নেই, শুধু আমরাই আছি।’ ইরানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘কোনো সময় তারা যদি কিছু করে, তবে তাদের উড়িয়ে দেয়া হবে। গত ৫০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যে বদমাশি করে আসছিল, তারা আর এখন সেই বদমাশ নয়।’ ‘রিয়াল আমেরিকা’স ভয়েস’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এক ধরনের দর-কষাকষি চালাচ্ছি। ওরা অত্যন্ত ধূর্ত আলোচক।’
গত রোববার ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি সমন্বয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ পাওয়া মোহসেন রেজায়ি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত না আমেরিকা তাদের আচরণ বদলাচ্ছে এবং ইরানের শর্ত মেনে নিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না।’ ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে এই বক্তব্য জানানো হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে সরবরাহ হতো।
সংঘাত ছড়ানোর আশঙ্কা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকে এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরান ওমান, জর্ডান, কুয়েত, ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সম্পদ ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর কমান্ডারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, বাহিনীটি ‘শত্রুর মাটিতে’ অভিযান চালানোর সক্ষমতা তৈরি করছে। এটি সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।





