হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, ‘বিগত ৫০ বছরে তারা যে ক্ষয়ক্ষতি করেছে, আমরা তার জন্য অর্থ চাইবো।’ তিনি জানান, এই ক্ষতিপূরণের আওতায় ইরানে বিক্ষোভে নিহত বেসামরিক নাগরিক এবং এই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেন, ইরান গত দেড় বছরে প্রায় ৫২ হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে। যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে এই সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। এছাড়া তিনি ২০০০ সালে ইয়েমেনে মার্কিন রণতরি ‘ইউএসএস কোল’-এ হামলার শিকার ১৭ জন নাবিকের পরিবারের জন্যও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। উল্লেখ্য, ওই হামলার জন্য আল-কায়েদাকে দায়ী করা হলেও ট্রাম্প এখন এর দায় ইরানের ওপর চাপাচ্ছেন। এক ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও গাজার ক্ষয়ক্ষতির জন্যও ইরানকে দায়ী করেন।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নির্ধারণের বিষয়ে তারা একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে তেহরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামরিক হুমকি বন্ধ এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের শর্ত পূরণ করতে হবে।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ দেশে অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ বন্ধ করা এবং জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম কমানোর প্রবল চাপে রয়েছেন ট্রাম্প। ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি বিল কিটিং সিএনএন-কে বলেন, ট্রাম্পের এই আচরণ আসলে নতি স্বীকারের শুরু। এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াতের জন্য তেহরানকে কোনো ধরনের ফি বা মাশুল দেয়ার চুক্তি তারা মেনে নেবেন না।
গত জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানি জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে। ইরান একে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন মিত্রদের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে।





