স্লোভাক আবহাওয়া দপ্তরের (এসএইচএমইউ) তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ডোলনে প্লাখতিনসে গ্রামে তাপমাত্রা ৪২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী দানিউবের পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণে নেমে যাওয়ায় দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তার সক্ষমতার ৮০ শতাংশে চলছে।
প্রতিবেশী হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে বুধবার রাতেও নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। সেখানে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে মাত্র ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দানিউবের পানি কমে যাওয়ায় হাঙ্গেরির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তার সক্ষমতার মাত্র ১০ শতাংশে চলছে। অথচ এ কেন্দ্রটি সাধারণত দেশটির প্রায় অর্ধেক বিদ্যুতের জোগান দেয়। অস্ট্রিয়ায়ও তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়েছে। বুধবার দেশটির স্লোভাক সীমান্তঘেঁষা বাদ ডয়েচ-আল্টেনবার্গ গ্রামে তাপমাত্রা ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা অস্ট্রিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ইতালি এই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তার নজরদারিতে থাকা ২৭টি প্রধান শহরের সবগুলোতে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেছে। কর্তৃপক্ষ সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত রোদে বের হতে নিষেধ করেছে।
তীব্র গরমে দেশটিতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী এক টমেটো ক্ষেতমজুরও রয়েছেন। অন্যদিকে জার্মানিতে খরা তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি কোম্পানি জাহাজের বদলে সড়কপথে পণ্য পরিবহনে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে পণ্যের সরবরাহ কমে দাম বেড়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে এমন চরম গরম এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে ইউরোপ মহাদেশ। এই গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহে মহাদেশটিতে হাজারো মানুষের অকালমৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের অবকাঠামো এই ধরনের চরম তাপমাত্রা সহ্য করার উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি।





