ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অস্থির গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও। প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন মিত্র দেশ সৌদি, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশকিছু দেশে হামলা চালিয়েছে তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই এবার গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। আবুধাবিতে ৪ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে গিয়ে গোপনে বৈঠক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে। যদিও এ বিষয়ে মুখ বন্ধ রেখেছে ইসরাইল ও আমিরাত। ইসরাইলি এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইসরাইল গণমাধ্যমের দাবি, এক ইসরাইলি ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে আবুধাবিতে যান নেতানিয়াহু। সেখানে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। সাধারণত ইসরাইলের শীর্ষ কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সফরে এই বিমানটি ব্যবহার করে থাকেন।
নেতানিয়াহুর সফর এমন এক সময়ে হলো যখন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার বিষয়ে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট দেড় সপ্তাহ আগেই নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন। তবে এই সতর্কবার্তা ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা বা সামরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছাননি নেতানিয়াহু।
প্রতিবেদনটি অস্বীকার করে সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছেন নেতানিয়াহু। আর সংযুক্ত আরব আমিরাত এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে আবুধাবির মরূদ্যান শহর আল-আইনে সাক্ষাৎ করেছিলেন নেতানিয়াহু ও আল নাহিয়ান। যদিও ওই খবর অস্বীকার করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে মে মাসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছিল, নেতানিয়াহু উপসাগরীয় দেশটিতে গোপনে সফর করে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন।
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষর হওয়া আব্রাহাম অ্যাকর্ড চুক্তির আওতায় কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তাদের মধ্যে উন্মুক্ত ও সরাসরি যোগাযোগের পথ খোলা রয়েছে।





