গত ২২ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের ভিজিল্যান্স অ্যান্ড কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন থেকে রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য জানান। পরে সোনালী ব্যাংক রাজশাহীর মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয় থেকে নাটোর ও নওগাঁর প্রধান শাখাকে চিঠি দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্যাংকের চিঠির সূত্র বলছে, সোনালী ব্যাংকের নাটোর শহরের বাসস্ট্যান্ড শাখা, স্টেশন বাজার শাখা, গুরুদাসপুর এবং চাঁচকৈড় শাখায় অভ্যন্তরীণ এবং বিশেষ অডিট পরিচালনা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এতে শহরের সোনালী ব্যাংক বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক, বর্তমানে নওগাঁর প্রিন্সিপাল শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার লিটন কুমার জালিয়াতি করে ব্যাংকের ৯২ লাখ ৭হাজার টাকা এবং বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার, বর্তমানে নওগাঁর টিটিডিসি শাখা ব্যবস্থাপক বিপুল কুমার পাল ৩৫ লাখ ২৮হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।
এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া ঋণপত্র, অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি সহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া অডিটে নাটোর স্টেশন বাজার শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক, বর্তমানে প্রধান শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এএইচএম রোকনুজ্জামান ৪৭লাখ ৩৬ হাজার টাকার ভুয়া ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি, একই অভিযোগে গুরুদাসপুর শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক, বর্তমানে প্রধান শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মনিরুজ্জামান ৭৭লাখ ৯৯হাজার টাকা এবং চাঁচকৈড় শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক, বর্তমানে বড়াইগ্রাম শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হাফিজুর রহমান ২কোটি ৮৮লাখ টাকার ভুয়া ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখিয়ে ব্যাংকের ক্ষতিসাধন করেছে।
তবে অভিযুক্ত সোনালী ব্যাংক বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক, বর্তমানে নওগাঁর প্রিন্সিপাল শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার লিটন কুমার নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বলেন, ‘কোনো গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা সরানো হলে, কেউ না কেউ অভিযোগ করতো। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখবেন কোনো গ্রাহক তার একাউন্ট থেকে টাকা সরানোর অভিযোগ করেননি। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। তবে ব্যাংক তদন্ত করে দেখুক।’
অভিযুক্ত আরেক কর্মকর্তা নাটোর বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার, বর্তমানে নওগাঁর টিটিডিসি শাখা ব্যবস্থাপক বিপুল কুমার পাল বলেন, ‘টাকা আত্মসাতের কোনো প্রশ্নই আসেনা। আমার বাপ-মায়ের অ্যাকাউন্ট থেকে শুধু ট্রান্সফার করেছি। কিন্তু চেকবিহীন করার কারণে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ব্যাংকের আর্থিক কেলেঙ্কারি ব্যাংক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি গ্রাহকদের আস্থা সংকট তৈরি করবে বলে মনে করছেন জেলার দুর্নীতি নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গ্রাহকের আমানত সুরক্ষিত করার পাশাপাশি আস্থা তৈরি করাও প্রয়োজন বলে মনে করছেন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি।’
তবে অভিযুক্ত ৫ ব্যাংক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টি স্বীকার করে সোনালী ব্যাংক রাজশাহী বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক শওকত জামান জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি ব্যাংকের নিয়মনীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।





