প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং এই চরম বৈরি আবহাওয়াকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সব সরকারি সংস্থাকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সব ধরনের সম্পদ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা রেকর্ড ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। সরকারি তথ্যমতে, এ বছর এখন পর্যন্ত তাপদাহজনিত অসুস্থতায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার মানুষ গরমের কারণে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট লি আজ (বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট) বলেন, ‘বিদেশের খবরগুলোতে আমরা আগে যে ধরনের তাপদাহ দেখতাম, এখন তা আমাদের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকারগুলো পার্ক, বাজার ও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে বিনামূল্যে ঠান্ডা পানি বিতরণ করছে। ইয়াংসান শহরে উত্তপ্ত রাস্তা ঠান্ডা রাখতে স্প্রিংকলার ট্রাক থেকে পানি ছিটানো হচ্ছে। অন্যদিকে নর্থ গিয়ংসাং প্রদেশের মতো গ্রামীণ এলাকাগুলোতে মাইক ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা লাগানো ড্রোন দিয়ে বয়স্ক কৃষকদের ছায়ায় বিশ্রাম নেয়ার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানী সিউলের রাজপ্রাসাদে প্রহরীদের ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজসহ সব ধরনের বহিরাঙ্গন কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। এমনকি পেশাদার বেসবল লিগের সব খেলাও এই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে ইনচনে খেলা দেখার সময় তাপদাহে এক তরুণ দর্শক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
গরম থেকে বাঁচতে গৃহহীন ও বয়স্করা এখন ইনচন ও গিম্পো বিমানবন্দরের মতো জায়গাগুলোতে ভিড় করছেন। সিউলের গিম্পো বিমানবন্দরে আশ্রয় নেয়া এক ব্যক্তি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, কোনো টাকা খরচ না করেই বিশ্রামের জন্য এটি উপযুক্ত জায়গা। এদিকে গরমে রোদ এড়িয়ে ছায়াযুক্ত পথ দিয়ে যাতায়াত করার জন্য ‘গুনুলরো’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছেন এক শিক্ষার্থী, যা দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই সপ্তাহের শেষে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসেও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।





