এস-৪০০ বর্জন না করায় আটকে গেল তুরস্কের এফ-৩৫: স্বপ্ন কি তবে এখানেই শেষ?

এফ-৩৫
এফ-৩৫ | ছবি: সংগৃহীত
0

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে এক চিঠিতে জানিয়েছে, তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচির শর্ত এখনো পূরণ করতে পারেনি। তাই রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বর্জন না করা পর্যন্ত আঙ্কারাকে এই যুদ্ধবিমান দেয়া হবে না। এর মধ্যেই তুরস্ককে তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এস-৪০০ ব্যবস্থা সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়া। এখন প্রশ্ন উঠেছে, তুরস্কের এফ-৩৫ সংগ্রহের স্বপ্ন কি তবে চিরতরে ভেঙে গেল?

গেল জুলাই মাসে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনটি ছিল তুরস্কের জন্য বেশ বড় এক সুযোগ। সম্মেলনের শেষ দিন বেস্তেপে প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। যেখানে ট্রাম্পের সম্মতি সাপেক্ষে একটি যৌথ বিবৃতিও দেয়া হয়।

এরদোয়ানের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা এবং ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি সেসময় বড় বড় সংবাদ শিরোনাম তৈরি করলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং কংগ্রেস এবার ভিন্ন এক বাস্তবতার কথা বলছে। তবে কি তুরস্কের এফ-৩৫ সংগ্রহের স্বপ্ন কি তবে চিরতরে শেষ হয়ে গেল?

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে এক চিঠিতে জানিয়েছে, তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে ফিরে আসার বেশ কিছু আইনি শর্ত এখনো পূরণ করতে পারেনি। এছাড়া রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বর্জন না করা পর্যন্ত আঙ্কারাকে এই যুদ্ধবিমান দেয়া হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এফ-৩৫ এমন একটি রুশ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে না। কেননা এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের যুদ্ধবিমানের উন্নত সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহার করা হবে।

২০১৯ সালে তুরস্কের আঙ্কারার মুর্তেদ বিমান ঘাঁটিতে রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রথম চালান এসে পৌঁছায়। ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও আঙ্কারা তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি বহাল রাখে। এর মধ্যে গেল মাসেও এই রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আরও কয়েকটি অংশ আঙ্কারার হাতে পৌঁছেছে।

রাশিয়ার এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ একটি দীর্ঘ ও মাঝারি পাল্লার অত্যন্ত শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যা যুদ্ধবিমান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ একসঙ্গে প্রায় ৮০টি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে সফলভাবে ধ্বংস করতে পারে। এছাড়া লক্ষ্যবস্তুর দিকে ১৬০টি পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম। ২০০৭ সাল থেকে এটি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে যুক্ত রয়েছে।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের চিঠিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আজারবাজাইন-আর্মেনিয়া এবং গাজা সংকট নিরসনে তুরস্কের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে আঙ্কারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর অন্যতম প্রধান মিত্র হলেও দেশটি রাশিয়ার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করে চলেছে।

ইএ