চীনা ডেটা সেন্টার যন্ত্রাংশ আমদানি নিষিদ্ধের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে ডিজিটাল রিয়েলটির একটি ডেটা সেন্টার
ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে ডিজিটাল রিয়েলটির একটি ডেটা সেন্টার | ছবি: রয়টার্স
0

চীনা কোম্পানিগুলোর তৈরি নতুন মডেলের ডেটা সেন্টার যন্ত্রাংশ আমদানি নিষিদ্ধ করতে খসড়া তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এ বিষয়ে অবগত চারটি সূত্র। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন টেলিযোগাযোগ শিল্পের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) এই ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। এর লক্ষ্য হলো, ডেটা সেন্টারের ভেতরে ফাইবার-অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে আলোর গতিতে ডেটা আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহৃত চীনা অপটিক্যাল ট্রান্সসিভার আমদানি বন্ধ করা। কর্মকর্তারা চলতি বছরের মধ্যেই এই নীতিমালা প্রকাশের আশা করছেন। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এটি কার্যকর হবে।

মূলত মার্কিন ডেটা সেন্টারগুলো থেকে তথ্য চুরি, ম্যালওয়্যার ইনস্টল বা সেবা ব্যাহত করা থেকে চীনা কোম্পানিগুলোকে বিরত রাখতেই এই পদক্ষেপ। এসব ডেটা সেন্টারেই এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত চিপগুলো সংরক্ষিত থাকে। ওয়াশিংটনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিকন গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিসের এআই নীতি বিশেষজ্ঞ দিব্যাংশ কৌশিক বলেন, ‘ট্রান্সসিভারগুলো নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ। ডেটা সেন্টার নির্মাণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে শুরু থেকেই সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন।’

বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউস ও এফসিসি সাড়া দেয়নি। তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের যৌক্তিক মতামত শোনা এবং চীনা কোম্পানিগুলোকে হয়রানি করা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চীনের স্বার্থে কোনো ধরনের ক্ষতিকর পদক্ষেপ নেয়া হলে চীন প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।’

ট্রাম্প প্রশাসনের চীনবিরোধী কর্মকর্তারা আরেকটি হুয়াওয়ে-জাতীয় পরিস্থিতি এড়াতে চান। কারণ, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হুয়াওয়ের টেলিযোগাযোগ যন্ত্রাংশ যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোয় এতটাই গেঁথে গিয়েছিল যে সেগুলো সরাতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। নতুন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ট্রান্সসিভার বিক্রেতা চীনের ঝংজি ইনোলাইট বড় ধাক্কা খাবে। গত জুনে পেন্টাগন কোম্পানিটিকে চীনা সামরিক-সমর্থিত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব ডেটা সেন্টার ট্রান্সসিভার বাজারের ২৭ শতাংশই ইনোলাইটের দখলে। এই কোম্পানির রাজস্বের ৯০ শতাংশই আসে চীনের বাইরে থেকে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসের (এডব্লিউএস) মতো মার্কিন ক্লাউড কোম্পানিগুলোর খরচ বেড়ে যেতে পারে। কারণ তখন তাদের কোহেরেন্ট ও লুমেন্টামের মতো অন্য উৎপাদকের কাছ থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে হবে।

এর আগে এফসিসি একইভাবে চীনা ড্রোন, রাউটার, রোবট এবং ইনভার্টারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প চীনা কোম্পানিগুলোর মেধাস্বত্ব চুরি এবং হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ নিয়ে সরব ছিলেন। তবে চীন গত বছর বিরল খনিজ পদার্থ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি কিছুটা নমনীয় অবস্থান নেন।

এএম