ইরান থেকে ইরাক, কাতার থেকে ওমান হরমুজ উত্তেজনা ঘিরে হামলা-পাল্টা হামলায় যখন নতুন করে যুদ্ধের দামাদামা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে; তখনই দুই বিবাদমান পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে মধ্যস্থতার মঞ্চে সৌদি আরব।
রোববার দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়নের শর্তে ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন ট্রাম্প। দাবি করেন, চুক্তির আওতায় হরমুজ অবিলম্বে সচল এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এর ঠিক একদিন পর ট্রাম্পের ইঙ্গিত, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে নতুন করে আলোচনায় বসবে যুক্তরাষ্ট্র- ইরান। তবে আলোচনার ভেন্যু কোথায় কিংবা এতে কারা অংশ নেবেন তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা চালাতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু সৌদি আরব তা চায়নি। তাই আমরা হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি। সোমবার বিকেলে নতুন আলোচনা শুরু হবে। আশা রাখি সবকিছু স্বাভাবিক হবে। অনেক প্রাণ বাঁচবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার খবরটি তেহরান স্পষ্ট না করলেও সংঘাত নিরসনে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এছাড়াও, হরমুজ ইস্যুতে ইরান- ওমান আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে বলেও দাবি তার। তবে রুট বিতর্ক নিয়ে দুই দেশ চুক্তিতে পৌঁছালেও হরমুজ পুনরায় খুলে দেয়া বা বন্ধের সঙ্গে তা সম্পর্কিত নয় বলে দাবি করেন ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। অন্যদিকে, গেল জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্তাবলী ওয়াশিংটনকে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্ভাব্য আলোচনায় হরমুজ ইস্যুতে সমাধান আসলেও পরমাণু ইস্যুতে ফের মতবিরোধে জড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। এছাড়াও, আসছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিনীদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয়তা হারানো ট্রাম্পের কাছে যুদ্ধ অপেক্ষা কূটনীতিকে বেছে নেয়া শ্রেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, যুদ্ধনীতির পরিবর্তে ইরানের সঙ্গে যখন কূটনৈতিক অ্যাপ্রোচকে বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তখনই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্তে জোর অভিযান চালাচ্ছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ইসরাইলের গোয়ান্দা সংস্থা মোসাদ। কয়েকটি সম্ভাব্য মোটিভকে মাথায় রেখে মোজতবাকে খুঁজে বের করতে অভিযান চালাচ্ছে গোয়েন্দারা। তাদের ধারণে ইরানেরই কোনো ভূ-গর্ভস্থ বাঙ্কারে লুকিয়ে আছেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। এছাড়াও, গোয়েন্দা নজরদারি থেকে বাঁচতে মোজতবা খামেনি গেল ৫ মাস ধরে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ব্যবহার করেছে না বলেও ধারণা সিআইএ ও মোসাদের।





