ভারতে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৭৫, জলাবদ্ধতার কবলে দিল্লি

ভারতে বন্যা পরিস্থিতি
ভারতে বন্যা পরিস্থিতি | ছবি: সংগৃহীত
0

বর্ষার বিরূপ রূপ দেখছে প্রায় পুরো ভারত। প্রাণহানি বেড়ে ৭৫-এ পৌঁছেও আসামে দীর্ঘ বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই। ব্যাপক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ওড়িশা-ছত্তিশগড়ে চলছে রেড অ্যালার্ট। ছত্তিশগড়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেছে অন্তত তিনজনের। ওড়িশায় পানিবন্দি এক লাখ মানুষ। উত্তরাখান্ড-মহারাষ্ট্রে জারি অরেঞ্জ ও ইয়েলো অ্যালার্ট। বন্যা সতর্কতা জম্মু-কাশ্মীরসহ ছয় রাজ্যে। ভারি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কবলে রাজধানী দিল্লি।

দিল্লিতে বছরের সবচেয়ে বৃষ্টিমুখর ও তিন বছরের জুলাইয়ের সবচেয়ে শীতল দিনটি ছিল মঙ্গলবার। একদিনের বৃষ্টিতেই পুরো মাসে মোট বৃষ্টিপাত ২২৬ মিলিমিটার। যদিও টানা বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার কবলে রাজধানী; বুধবারও রয়েছে দফায় দফায় বৃষ্টির আভাস। যমুনা নদীতে পানি বাড়তে থাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে তীরবর্তী এলাকায়।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, প্রচণ্ড যানজট। আমি গত ১৫ বছর ধরে কনট প্লেস বাজার এলাকায় বাস করছি। এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।

পূর্ব উপকূল থেকে ভারতের ভেতরে আগাচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, প্রবল বৃষ্টিপাতের আভাস দেশের উত্তর, মধ্য, পূর্ব, উত্তরপূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে। যার প্রভাবে আগামী কয়েকদিন দিল্লি, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্ণাটক, রাজস্থান, বিহার, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গের গাঙ্গেয় অঞ্চল, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়সহ ২০টির বেশি রাজ্যে ব্যাপক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার আভাস ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের।

ওড়িশা-ছত্তিশগড়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ আবহাওয়া সতর্কতা রেড অ্যালার্ট। ছত্তিশগড়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেছে কয়েকজনের। ওড়িশায় দুর্যোগকবলিত এক লাখ মানুষ। আসামে এক সপ্তাহের বেশি সময়ে বন্যা পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে, বেড়েছে প্রাণহানি। ৬২২ গ্রামে এখনও পানিবন্দি সাড়ে তিন লাখ মানুষ; ক্ষতিগ্রস্ত এক লাখ একরের বেশি কৃষিজমি। মৃতদের পরিবারপ্রতি নয় লাখ রুপি করে আর্থিক সহযোগিতা দেবে রাজ্য সরকার।

উত্তরাখণ্ডে দেহরাদুনসহ বেশিরভাগ জেলায় জারি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা অরেঞ্জ অ্যালার্ট। চার ধাম যাত্রা দুইদিনের জন্য স্থগিত। তীব্র বৃষ্টিতে জায়গায় জায়গায় ভূমিধসের জন্য যান চলাচল বন্ধ শতাধিক সড়কে। ধসে পড়েছে টোন্স নদীর সেতু সংলগ্ন একটি সড়ক।

মহারাষ্ট্রের তিন জেলায় অরেঞ্জ এবং থানে-পুনে-রায়গড়সহ রাজ্যের বাকি প্রায় সব জেলায় তৃতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা ইয়েলো অ্যালার্ট চলছে। নাগপুরে মাত্র ছয় ঘণ্টায় রেকর্ড করা হয়েছে ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি।

স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টি হবে কি হবে না, এসবের নিয়ন্ত্রণ কারো হাতে নেই। কিন্তু যেভাবে বৃষ্টি শুরু হলো, পুরো স্কুল পানিতে ডুবে গেলো। স্কুল থেকে খবর পেয়ে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। দেখতেই পাচ্ছেন পানির কারণে স্কুলের ভেতরে ঢোকা যাচ্ছে না।

তীব্র বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কবলে উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা ও মধ্য প্রদেশের ছাতারপুর। জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ে জারি করা হয়েছে বন্যা সতর্কতা। এরই মধ্যে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের কুলগাম ও বান্দিপোরায়, একাধিক ভূমিধসের কবলে হিমাচল।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস, আগামী এক থেকে দুই দিন ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে থাকবে এমনই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি।

ইএ