ককরোচ জনতা পার্টির হাত ধরে কি তৈরি হচ্ছে ভারতের নতুন রাজনৈতিক শক্তির ভিত?

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্লোগান দিচ্ছেন
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্লোগান দিচ্ছেন | ছবি: সংগৃহীত
0

গেল এক দশকে দুই জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অপসারণ করা হলেও মাত্র এক মাসের আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ- ভারতীয় জনতা পার্টির ইতিহাসে বিরল ঘটনা। অপ্রতিরোধ্য মোদিকে রুখে দেয়া এই ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা ভবিষ্যতে রাজনীতিতে নামবেন কী না- এ প্রশ্নই এখন সবার মুখে মুখে। যদিও সিজেপি মুখপাত্রদের দাবি, তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করাই তাদের দলের মূল লক্ষ্য। আর সিজেপির রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাকে সময়ের হাতেই ছেড়ে দিতে চান তারা।

১২ বছর ধরে ভারতে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বিজেপি। গেল এক যুগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর ছাড়া গণআন্দোলনের মুখে আর কোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অপসারণের নজির নেই দলের ইতিহাসে। অভ্যন্তরীণ রদবদলে ২০২১ সালের জুলাই মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন ও শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়ালসহ ১২ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করলেও, ভারতীয় জনতা পার্টির ইতিহাসে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বড় ঘটনা। পরিসংখ্যানের বিচারে তিনি দ্বিতীয়।

এরচেয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য, গেল মে মাসে সামাজিক মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করা ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের মুখে সরে যেতে হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে। ভারতের রাজনীতিতে যা নজিরবিহীন।

সামাজিম মাধ্যম থেকে যন্তর মন্তর- শিক্ষামন্ত্রী হটাও- আন্দোলনের হোতা ককরোচ জনতা পার্টি'র সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে এখন চলছে নানা আলোচনা। যদিও ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস অবশ্য বলেছেন, পূর্ণকালীন রাজনীতিতে নামার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই তাদের। তবে যুব-নেতৃত্বাধীন তৃণমূল পর্যায়ে আন্দোলনকে শক্তিশালী করাই তাদের লক্ষ্য।

আর রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে সিজেপির আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা- সময়ের হাতেই ছেড়ে দিতে চান দলের কর্মীরা। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আর অন্যান্য দাবি পূরণ হওয়ায় আপাতত অন্য কিছু ভাবতে নারাজ দুই মুখপাত্র। যদিও তারা মনে করেন, ভারত এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে 'না' বলার সুযোগ কম থাকে। আর, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিষেক দীপকের বার্তা, তাদের যাত্রা মাত্র শুরু হল, এখনও অনেক পথ বাকি।

ককরোচ পার্টির ভবিষ্যৎ আলোচনা ছাড়াও এই পদত্যাগের ঘটনায় মোদির ভাবমূর্তিও নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অটল নিয়ন্ত্রণের ভাবমূর্তির ওপর ভিত্তি করে নিজের কর্তৃত্ব গড়ে তুলেছিলেন মোদি, হিন্দু জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা যোগাচ্ছিল বাড়তি রসদ। কিন্তু রাজপথের এক আন্দোলন টলিয়ে দিয়েছে সেই ভীত। কলকাতায় আর জি করে নারী চিকিৎসক হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রায় একই ধরনের গণআন্দোলনের মুখে পড়েন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বিশ্লেষণ, কখনও দুর্বলতা শিকার না করা দল যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অপসারণ মেনে নেয়, তার মানে বুঝতে হবে আন্দোলনের তীব্রতা কোণঠাসা করেছে ক্ষমতাসীনদের। আরও তাজ্জব করা বিষয় গতকাল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আগে দুই দফায় ভিডিও বার্তা নিয়ে হাজির হতে দেখা গেছে মোদিকে। কিন্তু গতকাল এমন বড় এক বিপর্যয়ের পর একপ্রকার নীরবতাই পালন করছেন কয়েক দশকের মধ্য ভারতের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী।

ইএ