জাপানে ভয়াবহ তাপদাহে সপ্তাহে নিহত ১৪, রেকর্ড হাসপাতালে ভর্তি

প্রচণ্ড তাপদাহে ছাতা মাথায় দিয়ে পথ চলছেন জাপানের পথচারীরা
প্রচণ্ড তাপদাহে ছাতা মাথায় দিয়ে পথ চলছেন জাপানের পথচারীরা | ছবি: সংগৃহীত
0

জাপানের রাজধানী টোকিওতে তাপদাহজনিত অসুস্থতা নিয়ে একদিনেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪৫০ জনের বেশি মানুষ। ১৬ বছর আগে এ ধরনের রেকর্ড রাখা শুরুর পর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। আজ (বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই) জরুরি পরিষেবা বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। গত এক সপ্তাহে দেশটিতে এই তাপদাহে অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সিএনএ-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

টোকিও ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বুধবার তাপদাহজনিত অসুস্থতা নিয়ে মোট ৪৫৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ২০১০ সালে এই তথ্য রাখা শুরুর পর এটাই সর্বোচ্চ। এ ছাড়া জরুরি সেবার ডাকও ১৯৬৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ফায়ার ব্রিগেডের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘আমরা মানুষকে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহারের অনুরোধ জানাচ্ছি।’ তিনি জানান, তাপমাত্রা যত বেড়েছে, রোগীর সংখ্যাও তত বেড়েছে। মঙ্গল ও বুধবার এই সংখ্যা বেশ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষের বসবাসের টোকিও প্রশাসনিক এলাকায় চলমান তাপদাহে একজন মারা গেছেন। আরও চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ।

পরিবার নিয়ে টোকিওর আসাকুসা এলাকায় বেড়াতে আসা যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটক ৩৫ বছর বয়সী নিক এস্টেস বৃহস্পতিবার বলেন, আবহাওয়া ‘অত্যন্ত গরম’। এস্টেস এএফপিকে বলেন, ‘আমরা আমাদের ভ্রমণের পরিকল্পনা করছি যেন মেট্রোতে সময় কাটানো যায় এবং শীতল থাকা যায়। ছোট ছোট দোকানে ঢুকে টুকিটাকি স্মারক কেনার চেষ্টা করছি, যেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র আছে। ঠান্ডা থাকার জন্য যা যা করা সম্ভব, সবই করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এটি একেবারেই কঠিন হয়ে উঠেছে। আমি গত গ্রীষ্মেও এখানে এসেছিলাম। কোনোভাবে এই বছর এক বছর আগের চেয়ে আরও বেশি গরম বলে মনে হচ্ছে।’

জাপানের অগ্নি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এই তাপদাহকে ‘দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি বুধবার জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে সারা দেশে অন্তত ১৪ জন মারা গেছেন এবং ১১ হাজার মানুষ জরুরি চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।

নাগোয়াসহ কেন্দ্রীয় আইচি অঞ্চলে সবচেয়ে তীব্র তাপদাহ চলছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার এই অঞ্চলেই ১১৬ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১২ কোটি মানুষের এই দেশের প্রায় পুরো অঞ্চলজুড়েই হিটস্ট্রোকের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে তাপমাত্রা বাড়ছে। সারা দেশে তীব্র তাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।’ সংস্থাটির ভাষ্য, ‘এই চরম তাপকে ‘‘দুর্যোগ’’ বলা কোনো অতিরঞ্জন নয়। হিটস্ট্রোকের কারণে অনেক মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হচ্ছে, এমনকি মৃত্যুও হচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার বেলা দ্বিপ্রহরের মধ্যেই অন্তত ছয়টি এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি ছিল। আরও তিনটি এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে।

সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কেন্দ্রীয় শিজুওকা অঞ্চলের হামামাতসুতে। সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর আইচি অঞ্চলে গাড়ি কোম্পানি টয়োটার সদর দপ্তরের শহর টয়োটায় ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং মিয়ে অঞ্চলের কুয়ানায় ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।

জাপানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট। টোকিওর উত্তরে ইসেসাকিতে সেদিন তাপমাত্রা উঠেছিল ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চলতি বছর জাপানে ৪০ ডিগ্রির ওপরে ওঠা তাপকে বোঝাতে নতুন একটি শব্দ চালু করা হয়েছে ‘কোকুশোবি’। এর বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘নির্মম গরমের দিন’। তাপদাহ সংক্রান্ত সতর্কবার্তার প্রতি জনসাধারণের মনোযোগ আরও বাড়াতে এই নতুন শব্দটি চালু করা হয়েছে। তবে এই শব্দ চালু করার ফলে দেশজুড়ে কোনো সরকারি ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয় না।

এএম