জেনেরিক ওষুধে শুল্ক বসাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চাপে ভারত-বাংলাদেশ

ওষুধে শুল্ক বসাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ওষুধে শুল্ক বসাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রে শেষ হচ্ছে জেনেরিক ওষুধের শুল্কবিহীন প্রবেশাধিকার। আগামী দু’বছর এ সুবিধা থাকলেও তৃতীয় বছর ১০০ এবং তারপর থেকে ২০০ শতাংশ শুল্ক গুণতে হবে রপ্তানিকারক দেশগুলোকে। যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণভাবে ওষুধ উৎপাদনে সমৃদ্ধ করতে এবং মার্কিন ভোক্তা পর্যায়ে খরচ কমিয়ে আনতে এ সিদ্ধান্ত, গতকাল (মঙ্গলবার, ২১ জুলাই) জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ সিদ্ধান্তে এরইমধ্যে সরগরম ওষুধশিল্পের রাজধানীখ্যাত ভারত। প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও।

জেনেরিক ড্রাগ, অর্থাৎ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দেয়া নাম ভিন্ন হলেও সারা বিশ্বে যেসব ওষুধ তৈরিতে একই উপাদান একই অনুপাতে থাকে; যেগুলোর মাত্রা, কার্যকারিতা ও ব্যবহারের কারণও একই। ব্র্যান্ডভেদে এসব ওষুধের নাম ভিন্ন হলেও অভিন্ন উপাদানভিত্তিক নাম- যে নামে ওষুধগুলো পরিচিত গোটা পৃথিবীতে। এ ধরনের ওষুধ রপ্তানিতে সারা বিশ্বে শীর্ষে ভারত।

চীন, ইসরাইল, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ডের মতো দেশগুলোকে পেছনে ফেলে, বিশ্বজুড়ে ২০০ এর বেশি দেশ ও অঞ্চলে বছরে গড়ে দুই হাজার ৬০০ কোটি ডলারের জেনেরিক ওষুধ রপ্তানি করে ‘ফার্মাসি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ খ্যাত ভারত। উৎপাদনের দিক থেকে দেশটি তৃতীয় শীর্ষ। বিশ্বজুড়ে রপ্তানিকৃত জেনেরিক ওষুধের বাজারের ২০ শতাংশই ভারতের দখলে।

আবার বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিতেও শীর্ষে ভারত। এমন পরিস্থিতিতে জেনেরিক ওষুধ আমদানিতে ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের ঘোষণায় সতর্ক ভারতের ওষুধশিল্প সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন:

সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সুলভ সব ধরনের জেনেরিক ওষুধের শুল্কবিহীন প্রবেশাধিকার অব্যাহত থাকবে ১ আগস্ট থেকে ঠিক আর দুই বছর।

এরপর প্রথম বছরে ১০০ শতাংশ আর দ্বিতীয় বছর থেকে ২০০ শতাংশ শুল্ক গুণতে হবে রপ্তানিকারক দেশগুলোকে। যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণভাবে জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদনে সমৃদ্ধ করতে এ সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএ’র তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রিত ওষুধের ৯০ শতাংশের বেশি জেনেরিক। আর এসব ওষুধের ৪০ শতাংশ মার্কিন ভূখণ্ডে যায় ভারত থেকেই। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৭০ কোটি ডলারের ওষুধ রপ্তানি করে ভারত। এ অবস্থায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ভারতের ওষুধশিল্পে ফেলতে পারে বড় প্রভাব।

আরও পড়ুন:

তবে ভারতের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিয়মের বেড়াজালে কতটা আটকাতে যাচ্ছে, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। এর আগে ওষুধ প্রস্তুতকারীদের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিতে ঝুঁকিতে পড়ে ভারতের স্বল্পমূল্যের ওষুধ সরবরাহ।

এরপর গেলো ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের এক বাণিজ্য চুক্তিতে বলা হয়, জেনেরিক ওষুধ ও এর উপাদান সংক্রান্ত বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ আছে নয়াদিল্লির।

এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভারতের ওষুধশিল্পে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কের প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশে ওষুধশিল্পের কাঁচামাল ও বিশেষায়িত ওষুধের বড় অংশ আসে ভারত থেকে। আবার আন্তঃসীমান্ত চিকিৎসা, পর্যটন খাতেও রয়েছে ভারতনির্ভরতা। তাই ভারতে ওষুধের মূল্য ও সহজলভ্যতা সরাসরি প্রভাব ফেলে বাংলাদেশে ওষুধের উৎপাদন খরচ এবং ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্যে।

এসএস