‘মুজতবা খামেনি ৯০ শতাংশ শেষ’: ট্রাম্পের দাবি

তেহরানের রাস্তায় সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির ব্যানার
তেহরানের রাস্তায় সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির ব্যানার | ছবি: রয়টার্স
0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির শীর্ষ কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আরও দাবি করেছেন, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি ‘৯০ শতাংশ শেষ’ হয়ে গেছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমানবাহিনী নেই সব শেষ। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে, তাদের সেরা নেতারা সবাই নিহত হয়েছেন।’

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ১৯৮৯ সালে মারা যাওয়া ইরানের বিপ্লবী নেতা খোমেনির নাম উচ্চারণ করলেও তিনি মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে নিহত হওয়া আলী খামেনিকে বুঝিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘খামেনি শেষ। তার ছেলে (মুজতবা) ৯০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাবা আলী খামেনি যে হামলায় নিহত হন, সেই একই হামলায় মুজতবা খামেনি আহত হয়েছিলেন বলে জানা যায়। এরপর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি গত সপ্তাহে তার বাবার জানাজাতেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে না আসায় তার স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।

এদিকে সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ার পর ট্রাম্পের এই মন্তব্য এল। এর মাধ্যমে কয়েক মাসের দীর্ঘ যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটল। ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানিয়েছেন যে গত সপ্তাহ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় শুরু হয়েছে। এ ছাড়া তিনি বৈশ্বিক নৌ-চলাচলের শত বছরের নীতি বদলে দিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের বদলে ফি আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।

ইরান এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নাবিক নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। আমিরাত এই হামলার প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছে, যা দুবাই ও আবুধাবিকে তেহরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এএম